ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধায় দারিদ্রতা ঘুচলো নিউটনের

 

দেবনাথ রণজিৎ কুমার

পানি কচুর বাগান করে দারিদ্রতা ঘুচালেন খুলনার কচু চাষি নিউটন মন্ডল। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে মাত্র ৫০ শতক জমিতে কচু চাষের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় নিউটন মন্ডলের  কচু চাষের সাফল্য দেখে ১০ জনের মত কৃষক কচু চাষ করছেন। উৎপাদিত কচু সবটাই তিনি বিক্রি করেন অনলাইনে। প্রায় ১০ ফুট ওজনের  একটি কচুর মূল্য সর্ব নি¤œ ১শ টাকা। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র সুবিধা নিয়ে সামান্য শ্রমিক থেকে নিউটন মন্ডল এখন দেশের একজন সফল চাষি। বর্তমানে কোরিয়ায় কচু রপ্তানির প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন কচু চাষি নিউটন মন্ডল। কচু চাষে নিউটন মন্ডলের সাফল্যের পর অনেকেই চলতি বছর থেকে কচু চাষ শুরু করেছেন ডুমুরিয়া উপজেলা এলাকায়।

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর এলাকার নিউটন মন্ডলের কচুর ক্ষেত। ‘নিউটনের কচু ক্ষেত’ বলেই এ স্থানটি পরিচিত। উপজেলার রংপুর গ্রামের রবীন্দ্র নাথ মন্ডলের পুত্র নিউটন মন্ডল। অভাবের কারণে লেখা-পড়া তেমন হয়ে ওঠেনি। তাই খুলনার দৌলতপুরে একটি জুট প্রেসে যাঁচাই বিভাগে শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতায়।  শ্রমিকরা মজুরি-বেতনের দাবীতে আন্দোলন করছে। নিউটন মন্ডল ফিরে গেলেন বাড়িতে। একই জেলার তেরখাদা উপজেলার কালিনগর এলাকার নিউটন মন্ডলের শ^শুর বাড়ি। সেখানে গিয়ে তিনি কচু চাষে উদ্বুদ্ধ হলেন। ২০০৯ সালের দিকে মাত্র ২ কাঠা (৩ দশমিক ৩০ শতক) জমিতে শুরু করেন কালিনগর থেকে কচুর চাষ। এরপর আর পিছনে ফিরতে হয়নি তাকে। নিউটন মন্ডলের প্রতিটি কচু ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। সুস্বাদু এ কচুর লতি। অল্প সময়ের মধ্যে নিউটনের কচুর বিশেষ গুন ছড়িয়ে পড়ে আশ-পাশ এলাকায়। পরের বছর তিনি আরও ১ বিঘা জমিতে কচু চাষ শুরু করেন। এবারও একই ফলন। এভাবেই চলতে লাগলো তার কচু চাষ। যত দিন যাচ্ছিল ততই জমির ক্ষেতের পরিমাণ বাড়ছে নিউটন মন্ডলের।

এক সময়ে নিউটন মন্ডল কচুর ছবি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করল। প্রতিটি কচু ১শ টাকা নির্ধারণও করল ফেসবুকের মাধ্যমে। এ থেকেই অনলাইনে নিউটন মন্ডলের কচু ব্যবসা শুরু।  হোম ডেলিভারীর ব্যাবস্থাও রয়েছে তার। বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিলেই বাড়ি বসেই পাওয়া যায় কচু। শুধু কচুই নয়। গত বছর নিউটন মন্ডল দেড় লাখ টাকা কচুর চারা বিক্রি করেছে ফেসবুকের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে একই উপায়ে কচুর চারা বিক্রি করেন নিউটন মন্ডল। কচুর লতিতেও জুড়ি নেই। প্রতিবছর লাখ টাকার উপরে তিনি কচুর লতি বিক্রি করেন।

নিউটন মন্ডলের কচুর চাষ এবং লাভের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে দ্রæত। ফলে এ উপজেলা এলাকায় এখন ৮ থেকে ১০ জন কৃষক কচু চাষ  করছেন।

সুখবর রয়েছে আরও। দেশের পর নিউটনের কচুর খ্যাতি এখন বিদেশেও। সম্প্রতি কোরিয়াতেও কচু রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে দর-দাম শুরু হয়েছে।  দর-দাম নির্ধারণ হলেই কোরিয়াতে খুব শিঘ্রই কচু  রপ্তানি শুরু হবে।

এব্যাপারে নিউটন মন্ডল বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণেই আমার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।  ফেসবুকের মাধ্যমে আমি কচু বিক্রি করি। বিকাশে টাকা আসলেই আমি চাহিদা অনুযায়ী কচু, কচুর চারা ও লতি পৌঁছে দিই। মাত্র ২ কাঠা জাযগার কচু চাষ আমার ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছে। এবার আমি কচুর পাশাপাশি বেগুন চাষ শুরু করেছি।

নিউটন মন্ডলের কচু চাষ সম্পর্কে ডুমুরিয়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কচু চাষ ধান চাষ অপেক্ষা লাভজনক। ডুমুরিয়ায় নিউটন মন্ডল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে যে কচু  চাষ করছেন তা দিন দিন সম্প্রসারণ হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা হয় ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোছাদ্দেক হোসেনের সাথে। তিনি জানান, উপজেলা এলাকায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। এরমধ্যে প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। বাকী জমিতে হয় সবজি ও ফলের চাষ। উপজেলা এলাকায় বেশ কয়েজন রয়েছেন সফল চাষি। আবার কেয়কজন রয়েছেন পুরস্কার প্রাপ্তও। সম্প্রতি সময়ে উপজেলার রংপুর এলাকার নিউটন মন্ডল নামের এক চাষি কচু চাষের মাধ্যমে সফল চাষির তালিকায় এসেছেন। তিনি আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন প্রগতিশীল চাষি হিসাবে পরিচয় লাভ করেছেন।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.