May 15, 2024
আঞ্চলিক

হারিয়ে যাওয়া মা-কে সন্তানের কাছে ফিরিয়ে দিলো পুলিশ

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

ছয়দিন আগে হারিয়ে যান ইয়াসমিন (৪০) নামে দুই সন্তানের এক জননী। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি জিডিও হয়। আর জিডির সূত্র ধরে ‘দিকভ্রান্ত’ ওই নারীকে তার সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দিলো যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। তাতে বেশ বাহবাও পাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীটি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজহারুল ইসলাম ইয়াসমিনের রামপুরার বাসায় এসে সন্তান রাজিয়া সুলতানা উর্মির (২০) কাছে তার মাকে বুঝিয়ে দেন।

এ বিষয়ে এসআই আজহারুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে লোকজন ইয়াসমিনকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে আসেন। ইয়াসমিন গুছিয়ে কোনো কথাই বলতে পারছিলেন না। থানায় আনার পর তাকে সেবা দেওয়া হয়। খাওয়া দাওয়াসহ রাতে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার সকালে আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা কথা বলে জানতে পারে তার বাসা আবুল হোটেল এলাকায়। পরে আমরা ইয়াসমিনকে নিয়ে মালিবাগ আবুল হোটেলের দিকে আসি। সেখানে লোকজনের কাছে জানতে পারি কিছুদিন আগে রামপুরায় এক নারীর নিখোঁজ সংক্রান্ত মাইকিং করা হয়েছিলো। পরে খোঁজ নেওয়া হয় রামপুরা থানায়। থানা থেকে জানানো হয় গত ১৬ মার্চ (শনিবার) এক নারী নিখোঁজের জিডি হয়েছিলো।

এক পর্যায়ে থানা থেকে জিডির আবেদনকারীর ফোন নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই রামপুরা বাজারের সামনের রাস্তায় ছুটে আসে এক নারী। পরে পুলিশের গাড়িতে থাকা ইয়াসমিনকে দেখে জড়িয়ে ধরেন তার সন্তান উর্মি এবং বলতে থাকে, এই যে আমার মা, গত ৬ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল।

জানা যায়, ইয়াসমিনের এক ছেলে ও এক মেয়ে। স্বামীর নাম ফরিদ আহমেদ। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান। পরিবার নিয়ে থাকেন পূর্ব রামপুরা এলাকায়। লোক মারফত বাবা জানতে পারেন মা সিরাজগঞ্জ আছেন, বাবা সেখানে গিয়েছেন মাকে খুঁজতে। তবে মা-কে খুঁজে পাওয়া গেছে, বিষয়টি জানানোর পর বাবা ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন বলে জানায় উর্মি। এসআই আজহারুল আরো জানান, ‘ওসি স্যারের নির্দেশক্রমে সন্তানের কাছে নিখোঁজ মাকে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি’।

মাকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা উর্মি জানায়, তার মা তিন থেকে চার বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বেশিরভাগ সময় ভালো থাকলেও মাঝে মাঝে সমস্যা বাড়ে। তখন বাসা থেকে একা একা বেড়িয়ে পড়ে। এভাবেই গত ১৬ মার্চ মা বাসা থেকে বেড়িয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে  নিখোঁজের মাইকিংসহ রামপুরা থানায় জিডিও করা হয়।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ওই মহিলা প্রথমে কোনো কথাই বলতে পারছিল না। থানায় আনার পর বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। সকালের দিকে তার মুখে ‘আবুল হোটেল, আবুল হোটেল’ শব্দ শোনার পর আমাদের পুলিশসহ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। পরে সন্তান খুঁজে পায় হারিয়ে যাওয়া মাকে।

তিনি আরো বলেন, চোর-ডাকাত ধরা ছাড়াও পুলিশ যে মানুষের সেবা করে থাকে এটা আবারও প্রমাণিত হলো। রামপুরা বাজারের সামনে পুলিশের গাড়িতে বসা ইয়াসমিনকে যখন তার মেয়ে ঊর্মি জড়িয়ে ধরে, এই দৃশ্য দেখে আশেপাশে অনেক পথচারী পুলিশের  প্রশংসা করতে থাকে। তাদের মধ্য থেকে অনেকেই বলতে থাকে, পুলিশ যদি জোরালো উদ্যোগ না নিতো হয়তোবা মাকে ফিরেই পেতো না সন্তানরা।

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *