বুদ্ধদেব বসু সাহিত্য পুরস্কার-১৮ পেলেন কবি সেবক বিশ্বাস

দ: প্রতিবেদক
সাহিত্যের আলো সাংস্কৃতিক অঙ্গন, বাংলাদেশ কর্তৃক প্রবর্তিত ‘বুদ্ধদেব বসু সাহিত্য পুরস্কার-২০১৮’ পেলেন এ সময়ের সুপরিচিত কবি সেবক বিশ্বাস। আয়োজকদের হাতে এপার ও ওপার বাংলা মিলিয়ে সর্বমোট ১০৪টি কাব্যের পাণ্ডুলিপি জমা হয়। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন পাঁচজন প্রসিদ্ধ কবি, যাঁরা গতানুগতিক ধারার বাইরে কবিদের বিশেষ কাব্যরীতির উপর গুরুত্ব দেন।
বিচারকগণের পুনঃপুন বিশ্লেষণ ও নিবিড় নিরীক্ষণে- কবিতার বিন্যাসের অনুষঙ্গ, উপস্থাপনার ব্যঞ্জনা, বিষয়াবতারণার প্রতীকী বৈচিত্র্য, শিল্পতা ও স্বতন্ত্রতার বিবেচনায় কবি সেবক বিশ্বাসকে তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বিগ্রস্ত বেহাগ’-এর জন্য প্রদান করা হয় এ পুুরস্কার।
‘বিগ্রস্ত বেহাগ’ সেবক বিশ্বাসের তৃতীয় ‘কাব্য’। গ্রন্থের কবিতাগুলো পাঠকের কাছে যে উচ্চমূল্য পাবে এমন প্রতীতি অবান্তর নয়। বিষয় ও রূপের অর্থবোধকতার সমন্বয়ে সংযোজিত এই কবিতাগুলো অন্যরকম, ভিন্ন উচ্চারণের। কবিতাগুলো গতানুগতিক নয় আছে আধুনিকতার এক নয়া যোজনা। সেবক সংস্কৃতি জগতে দীর্ঘদিন থেকে যুক্ত এবং তার সৃষ্টিকর্ম ইতোমধ্যে সংস্কৃতি প্রিয়মানুষের কাছে আদৃত হয়েছে। আসলে প্রত্যেকটা দশকে নতুন কবিরা কাব্যে খুব বেশি কিছুর পরিবর্তন ঘটায়না কিন্তু আয়োজনে এমন কিছুর সন্নিবেশ ঘটায় টেক্সটে যা পিছনে ফেলে আসা দশকগুলো থেকে অদ্ভুত রকমে নতুন করে তোলে রূপ ও প্রকাশ। আর বদলে যায় পুরানো সুর- কাব্যভাষা। কবি সেবক বিশ্বাস কবিতায় ঐতিহ্যের উপস্থিতি আছে টায়টায় নয়, গতানুগতিকতায়ও নয়, বরং নতুন এক স্বরে মাত্রাপূর্ণ বৈভবে। রয়েছে ঐতিহ্যের নতুন সংযোজন ফলে তার কবিতা ভিন্ন হয়ে উঠেছে বিগত সময়ের সুরছন্দ থেকে।
আধুনিক কবিতায় তার সামর্থ ভাষ্যের, চিন্তা ও চেতনার এক বিস্তৃতভাবনা মানবজীবনের ভাব ও অনুভবের দার্শনিক প্রজ্ঞার। আধুনিক কবিতা মন্ত্র-সাহিত্য নয়, বন্দনারও নয়। আধুনিক কবিতা তাই পূর্ব-কাব্য শৈলীর উত্তরসুরী হয়েও নতুন আলোকে নতুন জ্ঞানের সংগে যুক্ত হয়ে ইতিহাস চেতনা, বিজ্ঞানের অর্জিত জ্ঞান, দর্শনের অনুসন্ধান বহুর জন্য। থাকে ফ্যান্টাসী, আকস্মিকতা এবং উদ্ভটতা। সেবকের বিগ্রস্ত বেহাগ কাব্যের কবিতাগুলোয় তার উপস্থিতি লক্ষণীয় এবং সবদিক থেকে শর্তগুলো পুরণের সার্থক চেষ্টা। বিশ্বাসযোগ্য যে,কবি সেবক বিশ্বাস আমাদের কালের একজন শনাক্তযোগ্য আধুনিক কবি।
উলে­খ্য, বাংলাদেশ বেতারের প্রসিদ্ধ গীতিকার কবি সেবক বিশ্বাস গান রচনা ও সুর করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন নিমগ্ন আছেন কবিতায়। ধানফুল সাহিত্যিক গোষ্ঠী- বাংলাদেশ’ ও বাংলাদেশ শিক্ষা-কল্যাণ সংসদ ২০১৭ সালে সম্মাননা পদকসহ তাঁকে ‘ধী-দ্যুতিমান কবি’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.