ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয় ডেমরার দুই শিশুকে : পুলিশ

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
ঢাকার ডেমরা কোনাপাড়ার এক বাসা থেকে দুদিন আগে দুই স্কুলশিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, ‘ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে’ সাত ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে দুটিকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে ওই দুজন।
মঙ্গলবার যাত্রাবাড়ীর ভাঙা প্রেস ও ডেমরার মোল্লাব্রীজ এলাকা থেকে সিরামিক মিস্ত্রী গোলাম মোস্তফা (৩১) ও তার ফুপাতো ভাই আজিজুল বাওয়ানীকে (৩২) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর বুধবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
এরপর বিকালে মোস্তফা ও আজিজুলকে আদালতে নিলে দুজনই ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে দুজনই শিশু দুটিকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে সংশি­ষ্ট আদালত পুলিশের কমর্কতা এসআই লিয়াকত হোসেন জানিয়েছেন। ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয় মোস্তফা ও আজিজুলকে।
ফারিয়া আক্তার দোলা (৭) ও নুসরাত জাহান (৫) নামের মেয়ে দুটি স্থানীয় একটি নার্সারি স্কুলে পড়ত। ডেমরার কোনাপাড়ায় শাহজালাল রোডে পাশাপাশি দুটি বাসায় থাকত তারা। সোমবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলার মধ্যেই নিখোঁজ হয় দুই শিশু। তাদের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিংও করা হয়।
এরপর রাতে স্থানীয় আবুলের বাড়ির নিচতর ভাড়াটিয়া মোস্তফার বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ে দুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন মোস্তফা বাসায় না পেলেও তার স্ত্রী আঁখি ও শ্যালককে আটক করা হয়। পরে তদন্তে নেমে মোস্তফা ও আজিজুলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে উপ পুলিশ কমিশনার ফরিদ উদ্দিন জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রথমে ধারণা করেছিলাম, অত ছোট বাচ্চাদের মুক্তিপণের জন্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে দুজন বলে, ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে তারা নুসরাত আর দোলাকে সোমবার দুপুরে বাসায় নিয়ে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদ বলেন, ঘটনার সময় মোস্তফার স্ত্রী গার্মেন্টকর্মী আঁখি ছিলেন কারখানায়। মোস্তফার ও আজিজুল তখন বাড়ির বাইরে খেলতে থাকা নুসরাত আর দোলাকে ‘লিপস্টিক কিনে দেওয়ার প্রলোভন’ দেখিয়ে বাসায় নিয়ে যায়। পরে দুজন ইয়াবা সেবন করে জোরে গান বাজিয়ে মেয়ে দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হত্যার পর দুই শিশুর লাশ খাটের নিচে রেখে দেন মোস্তফা ও আজিজুল। পরে আজিজুল ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যান, মোস্তফা তখনও ছিলেন। সন্ধ্যায় আঁখি বাসায় ফিরে স্বামীর ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ দেখে সন্দিহান হয়ে ওঠেন। আঁখি প্রতিবেশীর বাসায় গেলে ওই ফাঁকে মোস্তফা বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ওই বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ে দুটির লাশ থেকে উদ্ধার করে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত গামছা এবং আরও কিছু আলামত সে সময় উদ্ধার করা হয় বলে জানান উপ কমিশনার ফরিদ।
তিনি বলেন, পেশায় সিরামিক মিস্ত্রী মোস্তফার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ডাকাতি চেষ্টার পুরনো একটি মামলা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে, আর আজিজুলের বাড়ি ফরিদপুরে। দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় ডেমরা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদ।
নুসরাতের বাবা পলাশ হাওলাদারের করা ওই মামলা তদন্ত করছেন ডেমরা থানার এসআই শাহ আলম। তিনিই দুই আসামিকে আদালতে নিয়ে তাদের জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত দুই আসামির জবানবন্দি নেওয়ার পর আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ঠিক করে দেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.