দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় খালেদার আপিল গ্রহণের শুনানি মঙ্গলবার

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড বাতিল ও খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আপিল গ্রহণ করা হবে কিনা, সে বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করেছে হাই কোর্ট। খালেদার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আপিলটি গ্রহণে শুনানির জন্য তারিখ চাইলে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুছ জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ আগামী মঙ্গলবার শুনানির তারিখ রাখে।

পরে জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, আজ আপিলটির অ্যাডমিশন হিয়ারিংয়ের জন্য ম্যানশন করেছিলাম। আগামী মঙ্গলবার অ্যাডমিশন হিয়ারিং হবে। আপিলের গ্রহণের শুনানির সাথে জামিন আবেদনের শুনানিরও বিধান আছে। জামিন আবেদন করা আছে। আমরা আশা করছি ওইদিন অ্যাডমিশন আবেদনের সাথে বেইল আবেদনেরও হিয়ারিং হবে।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার চার দিন পর গত বছর ১৮ নভেম্বর হাই কোর্টে আপিল করেন আইনজীবীরা। ৬৩৮ পৃষ্ঠার মূল রায়সহ প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই আপিলের সঙ্গে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদনও করেন খালেদার আইনজীবীরা।

সেদিন বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবী কায়সার কামাল বলেছিলেন, এই মামলায় অবৈধ ও অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আপিল করে সাজা বাতিল ও খালাস চাওয়া হয়েছে। হাই কোর্টের কোনো একটি বেঞ্চে আপিলটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান গত ২৯ অক্টোবর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন তিনি। পাশাপাশি তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয় রায়ে।

সাত বছর আগে দুদকের করা এই মামলা রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন থেকে অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ট্রাস্টের অনুকূলে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা কখনও কাম্য হতে পারে না।

খালেদার আপিল হাই কোর্টে জমা পড়ার পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেছিলেন, যে আদালতেই শুনানি হোক, আপিল মোকাবেলায় দুদক প্রস্তুত।

গত ১৪ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর খালেদার অন্যতম আইনজীবী ছানাউল­াহ মিয়া সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পান। রায় পর্যালোচনা করে চার দিন পর তারা আপিল জমা দেন। এ মামলায় দণ্ডিত চার আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানের আইনজীবী আখতারুজ্জামানও ইতোমধ্যে রায় পর্যালোচনা করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় রায়; এর আগে গত ফেব্র“য়ারিতে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার রায়ের পর থেকে তিনি কারাবন্দি। এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালত বিএনপি চেয়ারপারসনকে ৫ বছর কারাদণ্ড দিলেও আপিলের রায়ে হাই কোর্ট সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেয়। এই সাজা বাতিলেও আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া।

 

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.