তালায় সাস এর তারা-ইডু প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ!

 

 

 

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

তালায় গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চলমান সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) এর তারা-ইডু প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে গেলে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশাসনের তদন্তেও মিলেছে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ।

জানা গেছে, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) কর্তৃক পরিচালিত ছঁধষরঃু ঊফঁপধঃরড়হ ভড়ৎ টঢ়ফবৎঢ়ৎর- ঠরষষবমবফ ঝঃঁফবহঃং ড়ভ  গ.ক ঐরময ঝপযড়ড়ষ (তারা-ইডু) প্রকল্পের আওতায় তালা উপজেলার এম, কে (মুড়াকলিয়া খানপুর) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা উক্ত প্রকল্পে খরচ দেখানো হলেও সেখানে  কোন কার্যক্রম  পরিচালনা না করে সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। প্রকল্পে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীর পোষাক বিতরণের কথা উল্লেখ করা হলেও সরেজমিনে ৩ টি শ্রেণি কক্ষে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়, যারমধ্যে ৪ জন স্কুল পোষাক পরিহিত ছিল। ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর সম্মানী ভাতা দেখানো হলেও সেখানে মাত্র ৪ জন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী রয়েছে। এছাড়া ছাত্রী কমনরুম উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিন স্থাপনের কথা উল্লেখ করা হলেও সেটি করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে সাস লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আসলেও কারো নজরে পড়েনি। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রত্যয়ন আনতে গেলে তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের তদন্তেও উক্ত অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন,  অত্র স্কুলে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা থাকলেও বাস্তবে ৪ জন পাওয়া গেছে। বাকি ক’জনের বেতন সীটে কোন স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। তবে বাকিরা যে বেতন পান সেটা তার মনে হয়নি। ল্যাট্রিন এবং কমানরুমের কথা জনতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে দৃশ্যমান তেমন কিছু দেখা যায়নি, তবে ঘর দু’টি তালাবদ্ধ ছিল। তারা ইডু প্রকল্পের ম্যানেজারের কাছে এ সকল বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেন নি বলে জানান শিক্ষা অফিসার।

এম, কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে স্কুলের ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীক পোষাক বিতরণ করা হয়।  তবে ঐ স্কুলের শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী বলেন, স্কুলটি এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সাস-এর একটি প্রকল্প থেকে তিনি ১ হাজার টাকা ভাতা পান। এছাড়া জাহিদা খাতুনসহ আরও ক’জন শিক্ষক এক হাজার টাকা করে ভাতা পান বলে জানান।

সাস পরিচালক ও এম,কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ ইমান আলী বলেন, স্কুলটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। তারা ইডু শিক্ষা প্রকল্প থেকে সহযোগিতা নিয়ে চালানো হয়। যে কয়জন শিক্ষক আছে তাদের মাত্র তিন হাজার টাকার মতো ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। যে কারণে সকল শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। সরকারি অনুদান ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হয়।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীন বলেন, সংশ্লিষ্টরা দেড়শতাধিক শিক্ষার্থীর কথা কললেও আমার উপস্থিতিতে সম্ভবত ৫০ জন শিক্ষার্থীকে স্কুল পোষাক বিতরণ করা হয়েছিলো। তবে প্রত্যয়ণপত্র দেওয়া হয়েছে কিনা সেটি আমি এখনি বলতে পারবো না।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.