জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আছে, থাকবে : রব

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
নতুন নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জোটের নেতা জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের পর গতকাল বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক কর্মসূচিতে এই ঘোষণা দিয়ে রব বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আছে, থাকবে।
এমপি হিসেবে শপথ নেওয়া নিয়ে জোটে নানা টানাপড়েনের খবর চাউর হওয়ার মধ্যে ‘ভোট ডাকাতি’র প্রতিবাদে কালোব্যাজ ধারণ করে মানববন্ধনের এই কর্মসূচিতে আসেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই জোটের নেতারা।
তবে এই কর্মসূচিতে ছিলেন না জোটের শীর্ষনেতা কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
কর্মসূচিতে বক্তব্যের শুরুতেই রব জানান, মির্জা ফখরুল, মন্টু ও মান্না তিনজনই চিকিৎসার জন্য বিদেশে রয়েছেন। আর পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানের জন্য যোগ দিতে পারেননি কাদের সিদ্দিকী।
কামাল হোসেনের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উনার ডান পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে, বাম পায়ে অস্ত্রোপচারের জন্য কমপক্ষে ৩/৪ সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকা দরকার। দেশের রাজনীতির কারণে উনি ৫/৭ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকেন না। আজকে উনার পায়ের ব্যথা অত্যাধিক বেড়েছে। সেজন্য মানববন্ধনের এই কর্মসূচিতে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন উপস্থিত হতে পারেননি।
শীর্ষনেতাদের অনুপস্থিতির কারণ তুলে ধরে রব বলেন, আমরা দৃঢ়তার সাথে বলছি, ঐক্যফ্রন্ট ছিল, ঐক্যফ্রন্ট আছে, ঐক্যফ্রন্ট থাকবে। মানববন্ধনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবদুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার। বিকালে এক ঘণ্টার এই কর্মসূচি চলাকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বন্দি সব রাজনৈতিক নেতার মুক্তির দাবিতে স্লোগান চলে।
জাফরুল­াহ চৌধুরী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পথিক, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল­াহ কায়সার, মমিনুল ইসলাম, জনদলের এটিএম গোলাম মওলা চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন মানববন্ধনে।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে রব বলেন, আজকে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ করছি। আমরা অপেক্ষা করে আছি, আগামীতে জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। আগামী ২৪ তারিখে কী কী অপকর্ম করেছেন, কী কী ডাকাতি করেছেন, সমস্ত কিছু উলঙ্গ করে দেওয়া হবে।
আমি বলতে চাই, রাষ্ট্রকে রক্ষায় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কর্মজীবী-পেশাজীবীসহ জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্য গড়তে হবে। শুধু ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, আন্দোলন করতে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান বলেন, ইতিহাসের পেছনে ফিরে গেলে দেখবেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে। মিডিয়ার কল্যাণে সেদিন ভোট কেন্দ্রে কুকুর ও বেড়াল দেখিছি, কোনো ভোটার ভোট দেয় নাই। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন হয়নি, প্রহসন হয়েছে। দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া জানে, দেশে কীভাবে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে লাইফ সাপোর্টে পাঠিয়েছে। আর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ডেড (মৃত) করে দিয়েছে। সেই লাশের উপর দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতা নৃত্য-কীর্তন করছে। আহা কী বিজয়! অন্তরে তো অনেক জ্বালা। মুখে শুধু হাসি দেখা যায়- এটার নাম হচ্ছে কাষ্ঠ হাসি।
আ স ম রব বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয় নাই, নির্বাচনের নামে নাটক হয়েছে। ৩০ তারিখ ভোট হওয়ার কথা, ২৯ তারিখে ভোট ডাকাতি হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে সূচক হল ১০০। বাংলাদেশে ভোট ডাকাতি হয়েছে ১১৭ পয়েন্ট তিন পারসেন্ট।
এর মধ্যে ৯৭ দশমিক ৩ পারসেন্ট হল ব্যালেটে ডাকাতি, ৫ পারসেন্ট যারা নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত ছিল ভোট দিতে পারে নাই, ৫ পারসেন্ট হল যারা মারা গেছে-বিদেশে আছেন, ১০ পারসেন্ট হল গার্মেন্টস শ্রমিকসহ যারা ভোট দিতে পারে নাই। মোট হচ্ছে ১১৭ দশমিক ৩।
ঠকের ওপরে বাটপার, বাটপারের ওপরে বাটপারি- এটা বিশ্বের আর কোথাও হয়েছে বলে শুনিও নাই, বই-পুস্তকে পড়ি নাই, দেখিও নাই।
রব বলেন, এখন পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে যারা ভোট ডাকাতি করেছে। ঘুষ দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন পর্যন্ত শিক্ষকদেরকে। যারা নিতে চায়নি, তাদের বলেছেন যে, না নিতে চাইলে দান করে দেবেন কিন্তু নিতে হবে।
হাজার হাজার কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছে সারা বাংলাদেশে প্রশাসন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসার সবাইকে ঘুষ দেওয়া হয়েছে।
জাফরুল­াহ চৌধুরী বলেন, ২৯ ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশে জনগণের অধিকার লুণ্ঠন হয়েছে। বিনা জানাজায় ৩০ ডিসেম্বর তাকে কবর দেওয়া হয়েছে। এই কবর যারা দিয়েছে আমলাদের সাথে পুলিশ বাহিনী, তাদের পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়েছে। আপনারা দেখেছেন গত দুইদিন যাবত পুলিশরা একের পর এক তাদের পুরস্কার গ্রহণ করছেন।
তারা (পুলিশ বাহিনী) দুইটা পুরস্কারের কথা বলতে ভুলে গেছেন। একটা তাদের কতজনকে অ্যাম্বেসেডর বানাতে হবে সেই দাবিটা করেন নাই। আরেকটা তাদের কতজনকে মন্ত্রী বানাতে হবে- সেই দাবি করেন নাই। অপেক্ষায় থাকেন, আজকে আমলা (জনপ্রশাসন) বনাম , আজকে ডিসি বনাম এসপি সাহেবদের রঙ্গযাত্রা দেখার জন্য। সময় সামনে আসছে। ঐক্যফ্রন্টের এই মানববন্ধন চলার সময় জাতীয় প্রেস ক্লাবের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.