কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি : মির্জা ফখরুল

 

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার কারাগারে রেখে এক সঙ্কটকাল অতিক্রমের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্ততি নিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন দুই সদস্য সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে শনিবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম, পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জেলা ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতে।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন পদে পুনর্র্নিবাচিত হন। পাশাপাশি দ্বিতীয় শীর্ষ পদ জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যানের পদে আসেন তারেক রহমান। ওই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্য থাকলেও সেই আশা পূরণ হয়নি বিএনপির। এরমধ্যে গত বছর দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া।

দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করে; যদিও বিএনপির অভিযোগ, ‘ভোট ডাকাতি’ করে গণরায় ‘ছিনিয়ে নিয়েছে’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

ফখরুল বলেন, আমরা শপথ গ্রহণ করেছি যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে অগণতান্ত্রিক ও বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে, তার মুক্তি ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আমাদের সংগ্রামকে আরও বেগবান করা হবে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে, যাতে নতুন অন্তর্ভুক্ত সেলিমা ও টুকু থাকবেন। স্থায়ী কমিটির যে পদগুলো এখনও শূন্য, তা কবে নাগাদ পূরণ করা হবে- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, যথাসময়ে সেগুলো সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১৯ জুন স্থায়ী কমিটিতে নেওয়া হয় ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা ও টুকুকে। তাদের নেওয়ার পর ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১৭।

জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে সেলিমা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের আজকে বড় চ্যালেঞ্জ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। আমরা স্থায়ী কমিটিতে এমন কিছু কৌশল নির্ধারণ করব, যাতে আমাদের দলটা সুসংগঠিত থাকে, ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং দেশনেত্রীকে অবিলম্বে মুক্ত করে আনতে পারি।

টুকু বলেন, আমরা একটা ক্রান্তিকালে এই পদে এসেছি। আমাদের চেয়ারপারসন বিনা কারণে জেলে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিনা কারণে দেশের বাইরে। আমাদের যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে, সেই অভিজ্ঞতা দিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য যেন আন্দোলন শুরু করতে পারি, সে চেষ্টা করব।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিশেষ সম্পাদক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নাদিম মোস্তফা, সেলিম রেজা হাবিব, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, মাহবুব্লু হক নান্নু, টিএস আইয়ুব, সাইফুল আলম নিরব, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, হেলেন জেরিন খান, আহসানুল­াহ হাসান, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.