একুশ আমার অহংকার

দ: প্রতিবেদক

আজ ১০ই ফেব্রুয়ারি। মহান ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি দশম দিন আজ। আর মাত্র ১১দিন পর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্র“য়ারি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা প্রাণ বিসর্জন দেন। যার প্রেক্ষিতে প্রতিবছর শহীদ দিবস হিসেবে দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়।

বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে চক্রান্তের অপর একটি রূপ ছিল বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে অনেক ধরনের অবাস্তব পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। এই উদ্দেশ্যে ‘পূর্ববাংলায় প্রচলিত বাংলা ভাষা প্রমিতকরণ, সহজীকরণ ও সংস্কারের প্রশ্নে পরীক্ষার’ জন্য ১৯৪৯ সালের ৯ই মার্চ পূর্ববাংলা সরকার ‘পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করে। মাওলানা আকরম খাঁ এই কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হন এবং সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, হবিবুল্লাহ বাহার, ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, মাওলানা আব্দুল­াহেল বাকী, সৈয়দ আবুল হাসনাত মুহম্মদ ইসমাইল, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, শইখ শরফউদ্দীন, গোলাম মুস্তফা প্রমুখ। ১৯৫০ সালের ৬ই ডিসেম্বর এই কমিটি তাঁদের মূল রিপোর্টটিকে চূড়ান্ত আকার দেন এবং কমিটির সভাপতি মাওলানা আকরম খাঁ পূর্ববাংলা সরকারের শিক্ষা দপ্তরের সেক্রেটারির কাছে সেটি পাঠিয়ে দেন। তবে পূর্ব পাকিস্তান ভাষা কমিটি পেশকৃত রিপোর্টে বাংলা বর্ণমালা আরবিতে লেখার বিরোধীতা করলে সরকারের উক্ত প্রয়াস বাধাগ্রস্ত হয়।

পাকিস্তান গণপরিষদের সাংবিধানিক মূলনীতি কমিটি ১৯৫০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট গণপরিসদে পেশ করে। উক্ত রিপোর্ট উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব হয়। মূলনীতি কমিটির রিপোর্টে প্রতিবাদে ঢাকায় একটি সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। সংগ্রাম কমিটি ১৯৫০ সালের ১২ নভেম্বর পূর্ববাংলায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অবশেষে পাক প্রধানমন্ত্রী উক্ত রিপোর্ট প্রত্যাহার করে নেয়।- (তথ্যসূত্র: বদরউদ্দীন ওমর, ভাষা আন্দোলন, সিরাজুর ইসলাম সম্পাদিত বাংলাদেশের ইতিহাস প্রথম খণ্ড)

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.