July 13, 2024
জাতীয়লেটেস্ট

৭ মার্চ শপথ নিচ্ছেন সুলতান-মোকাব্বির

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান আগামী ৭ মার্চ শপথ নেবেন বলে জানানোয় তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। যদিও দলটির কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
গতকাল শনিবার সংবাদমাধ্যমে মনসুর-মোকাব্বিরের শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্তের খবর ছড়ানোর পর বিকেলে গণফোরাম কার্যালয়ে দলটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিকের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দু’জনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
রফিকুল ইসলাম পথিক বলেন, বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রিকায় জানতে পারলাম আমাদের দলের টিকিটে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আমরা দলীয়ভাবে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি।
এসময় দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন যুব গণফোরামের আহবায়ক কাজী হাবিব, গণফোরামের যুব সম্পাদক রওশন ইয়াজদানি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক খান সিদ্দিক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম, ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল­াহ মধু প্রমুখ।
এদিকে সুলতান মনসুর বলেন, আমি ৭ মার্চ শপথ নেওয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছি। ওইদিন শপথ নেবো। শত প্রতিকূলতার মধ্যে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাদের ভোটের সেই মর্যাদা দিতে আমি শপথ নিচ্ছি। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
মোকাব্বির খান বলেন, ‘আমি এবং সুলতান মনসুর একসঙ্গে শপথ নেবো। আমরা চিঠি দিয়েছি। এখন স্পিকার কবে সময় দেন, তার ওপর শপথ নেওয়া নির্ভর করবে।’ গণফোরাম থেকে শপথ নেওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোকাব্বির খান বলেন, ‘আমার দল শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সব সময় ইতিবাচক।’
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে আসছেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু। এ ভাষ্য নজরে আনা হলে মোকাব্বির বলেন, ‘এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। দলীয় সিদ্ধান্ত নয়।’ সিলেট-২ আসন থেকে গণফোরামের ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোকাব্বির খান।
এদিকে এই দুই সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘তারা কবে চিঠি দিয়েছেন, তা আমি জানি না। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেতো আমার জানা উচিত। আমাদের এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি যে তারা এককভাবে শপথ নেবেন। আমরা যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, শপথ নিতে চিঠি দিতে হলে ঐক্যফ্রন্টের সবাই একসঙ্গে দেবো এবং একসঙ্গে যাবো আন্দোলনের অংশ হিসেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন কেউ যদি নিজে থেকে শপথ নেওয়ার জন্য চিঠি দেয়, তাহলে আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, ‘দলের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হলো তারা শপথ নেবেন না। তারপরও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ যদি শপথ নেয়, তাহলে দলের বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *