১৪ মরদেহ শনাক্তে লাগবে ১৫ দিন, বাকি ৫টির তিন সপ্তাহ

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
পুরান ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাত ১৯ মরদেহের মধ্যে ১৪টি তাদের পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে ১৫ দিন সময় লাগবে। বাকি পাঁচটি শনাক্ত করতে তিন সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডি অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার।
পুরান ঢাকার চকবাজারে গত ২০ ফেব্র“য়ারি লাগা আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ৬৭ জনের মধ্যে এখনও ১৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে সিআইডি। ১৯টি মরদেহের বিপরীতে এ পর্যন্ত লাশের দাবিদার হিসেবে ৩৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ৬৭টি মরদেহের মধ্যে ১৯টি মরদেহ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বাকিদের মরদেহ শনাক্ত করে জেলা প্রশাসকের তত্ত¡াবধানে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই মরদেহের একাধিক দাবিদার হিসেবে ১৯টি মরদেহের বিপরীতে ৩৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ১৪টি মরদেহের মাসল স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে, যেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় লাগবে। বাকি পাঁচটি মরদেহ বেশি দগ্ধ হওয়ায় সেগুলোর হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের পর্যায়ে আসতেই অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর ডিএনএ ম্যাচিংয়ের বিষয়টি আসবে।’
দুর্ঘটনাস্থলের বিষয়ে সিআইডি কোনও পরীক্ষা করবে কিনা, জানতে চাইলে শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, ‘আমাদের মহাখালীতে কেমিক্যাল ল্যাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত দফতর ফায়ার সার্ভিস যদি আমাদের সহায়তা চায় তাহলে সেসব স্যাম্পল পরীক্ষায়ও সহায়তা করা হবে।’
পরবর্তীতে কোনও পরিবার লাশের দাবি জানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৬৭টি মরদেহের স্যাম্পলই (নমুনা) আমাদের কাছে রয়েছে এবং এটা যুগ যুগ ধরে সংরক্ষিত থাকবে। কোনও পরিবার যদি পরবর্তীতে দাবি জানায় তাহলে তখন পরীক্ষা করা হবে। তবে এই চ্যালেঞ্জের বিষয়টি অবশ্যই আদালতের মধ্য দিয়ে আসতে হবে।’
এর আগে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার জানান, চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ২১ ফেব্র“য়ারি থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে ৬৭টি মৃতদেহ থেকে ২৫৬টি (রক্ত, টিস্যু, হাড় ও বাক্কাল সোয়াব) ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে ২৩ ফেব্র“য়ারি একটি বিচ্ছিন্ন পথক হাতকে পৃথক আলামত হিসেবে গণ্য করে সেটি থেকেও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর ফলে মোট সংগৃহীত নমুনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৭টিতে।
তিনি জানান, ২২ ফেব্র“য়ারি থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত অস্থায়ী বুথের মাধ্যমে লাশের দাবিদারদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। সর্বশেষ গতকাল রবিবার (২৪ ফেব্র“য়ারি) পর্যন্ত ৩৮ জনের কাছ থেকে ৩৮টি রেফারেন্স নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অশনাক্ত মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হতে সিআইডির ফরেনসিক টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। সিআইডির ডিএনএ ল্যাব টিম সর্বোচ্চ দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষা করে অশনাক্তদের পরিচয় শনাক্তের কাজ শেষ করবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.