১০ মাসে ১১ লাখ প্রাণ কাড়ল করোনা

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হওয়ার প্রায় ১০ মাসে বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১১ লাখ পেরিয়ে গেছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১১ লাখ ১ হাজার ৪২০ জনের। বৃহস্পতিবার এই ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৪৭২ জন।

কিন্তু শুক্রবার এই প্রতিবেদন তৈরির সময় (বেলা ১টা ৪০ মিনিট) বিশ্বে করোনায় মোট সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৭ এবং মারা গেছেন ১১ লাখ ৩ হাজার ৫৭ জন।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী করোনার উৎপত্তি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। লাগামহীন বিস্তার অব্যাহত থাকায় পরবর্তীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে গত ১১ মার্চ।

বৈশ্বিক এই মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ২২ হাজার ৬০০ জনের বেশি এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মৃত্যুর সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরে আছে ব্রাজিল; এই দেশটিতে করোনায় প্রাণ গেছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬০ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৬ জন।

এরপরে তৃতীয় সর্বোচ্চ মানুষের মৃত্যু দেখেছে এশিয়ার দেশ ভারত; দেশটিতে ১ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা এবং সংক্রমিত হয়েছেন ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৬৮ জন। এছাড়া মেক্সিকোতে ৮৪ হাজার ৮৯৮ জন মারা গেছেন করোনায়, আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হারতে বসা ইউরোপে ফিরে এসেছে এই ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী শীতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে করোনার প্রথম ধাক্কায় মৃত্যুর তালিকায় সবার ওপরে আছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মারা গেছেন ৪৩ হাজার ২৯৩ জন এবং সংক্রমিত হয়েছেন ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬২২ জন।

এরপরে ৩৬ হাজরের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে, ৩৩ হাজার ৫৫৩ জন মারা গেছেন স্পেনে, পেরুতে ৩৩ হাজার ৫১২ জন, ফ্রান্সে ৩৩ হাজার ১২৫ এবং ইরানে ২৯ হাজার ৬০৫ জন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হলেও দেশটি মহামারি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বিশ্বজুড়ে লাগামহীন বিস্তার ঘটলেও চীন ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধ করেছে। দেশটিতে করোনায় প্রাণ গেছে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৪৬ জন।

বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ কোটি ৯৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ।

এদিকে, ইউরোপের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসের বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যথাযথ কৌশল অবলম্বন না করা হলে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। এমনকি ভ্যাকসিন এলেও এই ভাইরাসকে সঙ্গী করেই বিশ্বকে বাঁচতে হবে।

করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালালেও এখন পর্যন্ত এর কোনও ভ্যাকসিন কিংবা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে অন্তত ৯টি ভ্যাকসিন শেষ ধাপের পরীক্ষায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

শেষ ধাপের পরীক্ষায় সফল হলে চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে এসব ভ্যাকসিন বাজারে আসতে পারে বলে আশার বাণী শুনিয়েছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এই সংস্থা।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!