হাইকোর্টে বেঞ্চ গঠন, মামলা করতে পারবে ঐক্যফ্রন্ট

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও হাইকোর্টের বেঞ্চে পিটিশন দায়ের করতে পারবেন সংক্ষুদ্ধরা। এজন্য তিনটি বেঞ্চ ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত ৩ জানুয়ারি কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে এবং ৬ জানুয়ারি আরেকটি স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ সত্য নয় মর্মে স্মারকলিপি দিয়েছে। কমিশন এগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করেছে। তারা যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল ও নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়, এগুলো আর এখন করার সুযোগ নেই। যদি কেউ সংক্ষুব্ধ হন, তাহলে তারা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মামলা করতে পারেন।
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আইন এখনও আছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল এখন আর নেই। তবে হাইকোর্টে মামলার করার জন্য আলাদা বেঞ্চ আছে। ইতোমধ্যে একাধিক বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।
আসনভিত্তিক ও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের বিষয়ে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে আসনভিত্তিক ফলাফল রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ করা হয় না। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সেভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধা-১ আসনের একজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় পুনর্তফসিলের পর সেখানে আগামী ২৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থী সরিয়ে নিয়েছে।
২৯৯ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন, জাতীয় পার্টি ২২টি আসন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি আসন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি আসন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২টি আসন, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি আসন ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ১টি আসন পেয়েছে। মহাজোট মোট আসন পেয়েছে ২৮৮টি। অন্যদিকে বিএনপি ৬টি ও গণফোরাম ২টি আসন পেয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মোট ৮টি আসন পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩ প্রার্থী।
বিএনপি এই নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ এনে ফল বাতিল করে নিদর্লীয় সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণের জন্য ভোটের দিনই দাবি তোলে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা ৩১ ডিসেম্বর ভোটের পরেরদিনই গণমাধ্যমকে বলেছেন, ফল বাতিল করে পুনর্র্নিবাচন করার সুযোগ নেই।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.