স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে পেটানো পুলিশ বরখাস্ত

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
ভোলাতে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে মাটিতে ফেলে উপর্যপুরি লাথি মেরে আহত করা ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা শাহে আলমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন।
শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা করা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আহত বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ যুগ্ম সম্পাদক আওলাদ হোসেন। রবিবার বিকালে শহরের বাংলাস্কুল মোড়ে মোটর সাইকেলের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় আওলাদকে রাস্তার পাশে নালায় ফেলে তারে ক্রমাগত লাথি মারতে থাকেন শাহে আলম। এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে।
এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করে অভিযুক্ত শাহে আলমের বিচার দাবি করেন।
আহত আওলাদ জানান, তিনি ও তার এক বন্ধু এক ছাত্রলীগ নেতা আলাদা মোটর সাইকেলে করে বোরহানউদ্দিন থেকে ভোলা জেলা শহরে আসেন। শহরের বাংলাস্কুল মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ তাদেরকে থামান। আওলাদের কাগজপত্র ঠিক থাকায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু তার সঙ্গীর হেলমেট না থাকা ও কাগজে কিছু ত্র“টির জন্য আটকে রাখে।
আওলাদ তার বন্ধুর মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এটিএসআই শাহে আলম। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহে আলম তার উপর চড়াও হন। গলার মাফলার ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দিয়ে লাথি মারতে থাকেন।
এ সময় বেশ কয়েকজন পথচারী এই দৃশ্য মোবাইল ভিডিওতে ধারণ করেন। ফেসবুকে সেটি আপলোড হয়ে যায় ঘটনাস্থলেই। গত ২৭ নভেম্বর একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাটারিচালিত অটো চালকদের মারধরের অভিযোগ উঠে। সে সময় চালকরা সংবাদ সম্মেলন করে শাহে আলমের শাস্তিও দাবি করেন।
ভোলা পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্ত শাহে আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এবং এ ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিধিমোতাবেক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.