সাতক্ষীরায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ঘটনায় ৫০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ধর্ষক

আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা দেবহাটায় প্রথম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও তার সহপাঠীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে কামড় দিয়ে আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পুলিশ দীর্ঘ ৫০ দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি ধর্ষক আব্দুর রহিমকে। এদিকে, নির্যাতিতার পরিবার অসহায় হওয়ায় তাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতা শিশুটির মা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের পহেলা ডিসেম্বর দুপুর একটার দিকে দেবহাটা উপজেলার সুশীলগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির গণিত পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরে ওই গ্রামের এক দিন মজুরের মেয়ে ও তার সহপাঠী একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধার নাতনি। বাড়িতে আসার পরপরই তারা দু’সহপাঠী তাদের প্রতিবেশী জনৈক জাকিরের বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধার নাতনি নাচে অংশ নেয়। সেখান থেকে চকলেট খাওয়ানোর নাম করে সুশীলগাতি গ্রামের মধ্যে পাতনার বিলে নিজের মাছের ঘেরের বাসায় নিয়ে যায় একই গ্রামের অপর এক মুক্তিযোদ্ধা আবুল শেখের ছেলে লম্পট আব্দুর রহিম শেখ (৫০)। সেখানে সে একজনকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে ও তার সহপাঠীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গোপনাঙ্গে কামড়ে ক্ষত বিক্ষত করে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে লম্পট রহিম শেখ পালিয়ে যায়। নির্যাতিত দু’ শিশুকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২ ডিসেম্বর সদর হাসপাতালে ধর্ষিতা শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীব রায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ ঘটনায় ধর্ষিতা শিশুটির মা বাদি হয়ে গত ৭ ডিসেম্বর রহিম শেখের নাম উল্লেখ করে দেবহাটা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষিতার মা অভিযোগ করে জানান, আসামী পলাতক থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদেরকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত রোববার বিকেলে রহিম শেখের ছেলে আব্দুর রহমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের কাছে এসে হুমকি দিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রহিম শেখের ছেলে আব্দুর রহমান জানান, হুমকি নয়, তার বাবার নামে দায়ের করা মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য বাদির কাছে যেয়ে পায়ে ধরেছিলাম।
আহত শিশুটির দাদা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করে জানান, অবিলম্বে তিনি ধর্ষক রহিম শেখকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
ধর্ষিতার মা আরো অভিযোগ করে জানান, তার স্বামী একজন দিন মজুর। অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় তার স্বামীর কাছে চার হাজার টাকা দাবি করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন চৌধুরী। পরে তিনি তার ননদ ডালিয়া খাতুন ও খাদিজা খাতুনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজা টাকা ধার করে ওই তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছিলেন।
তবে, মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপ-পরিদর্শক নয়ন চৌধুরী জানান, মামলার বাদি পক্ষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। তবে আসামী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, গত ৭ জানুয়ারী এ মামলায় আসামী আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সাহা জানান, তিনি গত রোববার এ থানায় যোগদান করেছেন। সবকিছু জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি আরো জানান।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.