সাকিবদের হারিয়ে মায়েদের জয় উৎসর্গ মিরাজদের

ক্রীড়া ডেস্ক
ঢাকা ডায়নামাইটস-রাজশাহী কিংস ম্যাচটি বিশেষ কারণে সবার নজর কেড়েছে। এতে নিজ নিজ মায়ের নাম লেখা জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন রাজশাহী ক্রিকেটাররা। জার্সিতে মায়ের নাম লেখা থাকায় উচ্ছ¡সিত ছিলেন মিরাজরা। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচটা জিততে এবং জয়টা মায়েদের উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন তারা। অবশেষে তাদের লক্ষ্যও পূরণ হলো। ডায়নামাইটসদের ২০ রানে হারালেন কিংসরা।
রীতিমতো উড়ছিল সাকিব বাহিনী। এর আগে চার ম্যাচ খেলে সবকটিতেই জয় পেয়েছিলেন তারা। এবারের বিপিএলে এ প্রথম পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল ঢাকা। আর সবশেষ ম্যাচে হেরেছিল রাজশাহী। ‘মায়েদের অনুপ্রেরণায়’ দুর্দান্ত জয়ে জয়ের ধারায় ফিরল দলটি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে গোড়াপত্তনেই হোঁচট খায় ঢাকা। শুরুতেই মিরাজের স্পিন বিষে নীল হন সুনিল নারাইন। এর জের না কাটতেই উদানার বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে বিদায় নেন হজরতউল্লাহ জাজাই। খানিক পর আরাফাত সানির শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন আন্দ্রে রাসেল। এতে চাপে পড়েন ডায়নামাইটসরা।
এর মধ্যে সানির দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাকিব আল হাসান ফিরলে অবস্থা আরো করুন হয় তাদের। এ পরিস্থিতিতে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি ইনফর্ম রনি তালুকদার। সানির স্পিন ভেলকিতে সোজা বোল্ড হন তিনি।
পরে নাইম শেখকে নিয়ে খেলা ধরার চেষ্টা করেন কাইরন পোলার্ড। জমাট বেঁধে গিয়েছিল তাদের জুটি। নাইমকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন মিরাজ। তবে আতঙ্ক হয়ে ছিলেন পোলার্ড। রাব্বির বলে দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফিরিয়ে পথের কাঁটা সরান সৌম্য সরকার।
এতে জয়ের রাস্তা পরিস্কার হয়ে যায় রাজশাহীর। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ধারাবাহিক বিরতিতে মোস্তাফিজের রানআউটে কাটা পড়েন রুবেল হোসেন। শেষদিকে ঝড় তুলে মোস্তাফিজের বলির পাঁঠা হন নুরুল হাসান। তাতে জয়টা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় ল্যান্স ক্লুজনার শিষ্যদের। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১১৬ রান তুলতে সামর্থ্য হয় ঢাকা। এতে বিজয়োল্লাসে মাতেন মিরাজ ব্রিগেড।
বুধবার দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজশাহী কিংস অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে প্রথমে বোলিং করতে নামে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। তবে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। ইনিংসের গোড়াতেই আন্দ্রে রাসেলের শিকার হয়ে ফেরেন মিরাজ।
দ্বিতীয় উইকেটে মার্শাল আইয়ূবকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন শাহরিয়ার নাফীস। দুর্দান্ত খেলতে থাকেন তারা। দুজনের মধ্যে দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। এতে দুরন্ত গতিতে ছোটে বরেন্দ্রভূমির দলটি। তবে হঠাৎই ছন্দ হারান শাহরিয়ার। ব্যক্তিগত ২৫ রানে সুনিল নারাইনকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন তিনি।
সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি মার্শাল। পরক্ষণেই ক্যারিবীয় মায়াবি স্পিনারের ঘূর্ণি জালে ধরা পড়েন তিনি। ফেরার আগে ৩১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার।
শুরুতে ধাক্কা খাওয়ার পর দলের হাল ধরেন নাফীস-আইয়ূব। তারা ফিরে যাওয়ার পর রাজশাহীকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন জাকির হাসান ও রায়ান টেন ডেসকাট। ফলে লড়াকু পুঁজি সংগ্রহের পথে থাকে দলটি। প্রথমে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন তারা। পরে হাত খুলে মারতে যান। সেখানেই বাধে যত বিপত্তি।
আলিস-আল ইসলামের বলে ব্যক্তিগত ২০ রানে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফেরেন জাকির। সেই রেশ না কাটতেই নারাইনের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ডেসকাট (১৬)। অল্পক্ষণ পর সাকিব আল হাসানের বলে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফিনিশ হন সেকুগে প্রসন্না। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৩৬ রান তুলতে সক্ষম হয় রাজশাহী। ঢাকার হয়ে নারাইন নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। ১টি উইকেট পকেটে ভরেন রাসেল, সাকিব ও আলিস।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.