সরকারের সঙ্গেই থাকতে চায় জাতীয় পার্টি : রাঙ্গা

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকারে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ ইচ্ছার কথা জানান। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান দশম সংসদের এই প্রতিমন্ত্রী।
তবে সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া ও দশম সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নতুন সংসদে নিজেদের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত আসতে পারেনি। নির্বাচনের পর থেকে দলটি এ বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘আমরা মহাজোটগতভাবে নির্বাচন করেছি। তাই অধিকাংশ এমপিই সরকারের সঙ্গে থাকতে চায়। এ বিষয়ে মহাজোটের নেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা-ই চূড়ান্ত।’
তাহলে কী সংসদে বিরোধী দল থাকবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জনগণই তো বিরোধী দল চায়নি। জনগণই উন্নয়নের স্বার্থে বড় ধরনের বিরোধী দল চায়নি। জনগণই মহাজোটকে ২৮৮ আসনে ভোট দিয়েছে।’
সংসদীয় দলের সভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সভায় আমাদের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ নির্বাচিত সব সংসদ সদস্য ছিলেন। আমরা ২০০৮, ২০১৪ এবং এবারও মহাজোটগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। সুতরাং আমরা মহাজোটের সঙ্গেই আছি। আগামী দিনেও আমরা মহাজোটের সঙ্গে থাকবো।’
তিনি জানান, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় তারা সরকার ও বিরোধী দলে ছিলেন। একইসঙ্গে সরকারি ও বিরোধী দলে থাকাটা প্রধানমন্ত্রীর নতুন ফরমেট ছিল। দেশের উন্নয়নের জন্য তারা সেভাবেই ছিলেন।
রাঙ্গা বলেন, ‘মহাজোটের আসন সংখ্যা ২৮৮টি। দেশের জনগণ চায় না সংসদে বড় ধরনের কোনও বিরোধী দল থাকুক। জনগণ সরকারের ওপর সন্তুষ্ট। সে কারণেই তারা মহাজোটকে ভোট দিয়েছে। মহাজোটই আগামী ৫ বছর ক্ষমতায় থাকবে।’
সংসদে বিরোধী দলের নেতা কে হবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের বিষয় নয়। এটা সংসদের নেতা ঠিক করবেন।’ সংসদে জাতীয় পার্টির নেতা কে হবেন জানতে চাইলে পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘সংসদে আমাদের পার্টির নেতা কে হবেন সেটা দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনের সময়ও ছিলাম, সরকারেও থাকবো। সেটাই আমরা চূড়ান্ত করেছি।’
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন পেয়েছে। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপি পেয়েছে ৫টি আসন ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম পেয়েছে ২টি আসন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.