সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহের ভয় দেখাতো চক্রটি

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
প্রথমে সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টার্গেট করতো চক্রটি। পরে সরাসরি কিংবা টেলিফোন ডিরেক্টরি থেকে ওই ব্যক্তির টেলিফোন নাম্বার সংগ্রহ করতো তারা। ফোন করে বলত, ‘আমি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক বলছি। আপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বা দুর্নীতির মামলা হয়েছে। বিষয়টি আমি তদন্ত করছি। আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন।’ বিষয়টি কেউ কেউ বিশ্বাস করে ফোন দেওয়া ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করত। দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ না করতে বা মামলার তদন্ত প্রভাবিত করতে তাদেরকে টাকা দিতো।
শুক্রবার রাতে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণাকারী দুই ব্যক্তিকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পেরেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার ও পুলিশ সুপার মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে ফোন করে দুর্নীতির মামলা রুজু বা মামলার তদন্ত চলছে মর্মে ভয় দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় ও হয়রানি করা হচ্ছে, এমন তথ্য জানিয়ে সংস্থা থেকে র‌্যাবকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব-২। এরপর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন ৪১/১ সনাতন গড়, বউবাজার থেকে আনিছুর রহমান ওরফে বাবুল (৩৬) এবং তার সহযোগী ও বিকাশ এজেন্ট মো. ইয়াসিন তালকুদারকে (২৩) আটক করা হয়। এ সময় ইয়াসিনের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ হিসাবধারী ১২টি সিমসহ ১৮টি মেবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে আনিছুরের চক্রটি এরকম প্রতারণা করে আসছে। এ পর্যন্ত তারা কমপক্ষে ৫০০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে দুর্নীতির মামলার ভয় দেখিয়ে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। তবে কোনো কোনো জায়গায় প্রতারক চক্রটি বাধার সম্মুখীনও হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, তারা জানিয়েছে, তাদের আরো সহযোগী রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পর তারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা প্রক্রিয়াধীন বা দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে এমন তথ্য দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করার পরিকল্পনা করে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.