সরকারকে বোঝাতে কূটনীতিকদের ড. কামালের অনুরোধ

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে আরেকটা ‘ভালো’ নির্বাচন দিতে সরকারকে ‘বোঝাতে’ বিদেশি কূটনীতিকদের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রোববার বিকালে গুলশানের একটি হোটেলে বসেছিলেন ফ্রন্টের নেতারা। র“দ্ধদ্বার বৈঠকে কূটনীতিকদের কাছে ওই অনুরোধ রেখেছেন বলে পরে সাংবাদিকদের জানান কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, ভালো আলোচনা হয়েছে। ভোটের দিন যা ঘটল সেটা আমরা তুলে ধরেছি। তারাও (কূটনীতিকরা) স্বচক্ষে দেখেছেন। অর্থাৎ এটা নিয়ে কোনো বির্তক হয়নি। উনারা শুনলেন আমরা কি বললাম। আমি বলেছি, তোমরা সরকারকে বুঝাও যে, এর সমাধান করতে হলে আরেকটা ভালো নির্বাচন দিতে হবে।
বিকাল ৪টা থেকে দেড় ঘণ্টার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড আর্ল মিলার ছাড়াও যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ ৩০টির বেশি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ফ্রান্স, সুইডেন, স্পেন, জার্মানি, নরওয়ে, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকার কূটনীতিকরাও ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফ্রন্টের নেতারা।
অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে ঐক্যফ্রন্ট। কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে কামাল হোসেন একাদশ নির্বাচনের ভোট পরিস্থিতি ও নির্বাচনের আগে-পরের ঘটনা তুলে ধরেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে কথা বলেন। বৈঠকে নির্বাচনে ভোটের নানা অনিয়মের একটি ভিডিও উপস্থাপন করার পাশাপাশি তথ্য-প্রমাণাদিসহ কাগজপত্র সরবারহ করা হয়।
কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, তারা বলেছে যে, তোমরা কী চাও? আমরা বলেছি যে, এই নির্বাচন যেহেতু হয়নি, আরেকটা ভালো নির্বাচন সরকার দিলে শান্তিপূর্ণভাবে সবাই ভোট দিতে পারে- এটা হলে শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আমরা সবাই মিলে গড়ব। এখন আমাদের কথা হল যে, ঠিক আছে যা হয়েছে হয়েছে। এখন একটা ভালো নির্বাচন দেওয়া হোক। আমরা বলেছি সবাই গঠনমূলক একটা ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কারও বিপক্ষে নই। সরকারকে আমরা বলব যে, আমরা মনে করি, দেশে শান্তিপূর্ণভাবে আরেকটা নির্বাচন হলে তার যা ফলাফল হয় তার ভিত্তিতে একটা গণতান্ত্রিক সরকার হবে। সেই সরকারই মানুষের আকাক্সখা পূরণ করতে পারে।
নির্বাচনের প্রচারে ক্ষমতাসীন দল ও আইনশৃক্সখলা বাহিনীর হামলার শিকার ধানের শীষের প্রার্থী গয়েশ্বর রায়, আফরোজা আব্বাস, রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা, জেবা খানও বৈঠকে ছিলেন।
এছাড়াও বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আসাদুজ্জামান রিপন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, তাবিথ আউয়াল, গোলাম মওলা রনি, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য এর জাফরুল্লাহ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.