রামপালে খাজা মঈন উদ্দিন হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

দ: প্রতিবেদক

জমাজমি নিয়ে বিরোধের কারণে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উজলকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খাজা মঈন উদ্দিন আক্তার হত্যা মামলায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী আসফুজ্জামান বাবুলকে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কাজী আসফুজ্জামান বাবুলের ভাই কাজী আছাদুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়।

রামপাল উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কাজী আছাদুজ্জামান লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৪ ফেব্রæয়ারি সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ভরসাপুর বাসষ্ট্যান্ডে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের বোমা হামলায় নিহত হন রামপাল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উজলকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খাজা মঈন উদ্দিন আক্তার। এ ঘটনার ৫ দিন পর নিহতের শ্বশুর সাহেব আলী আকুঞ্জি বাদীয় হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ১২-১৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী সাহেব আলীর সাথে আমার ভাই বাবুলের জমাজমি নিয়ে বিরোধের কারণে তাকে হয়রানী করার জন্যই তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী আছাদুজ্জামান আরো বলেন, খাজা মঈন উদ্দিন আক্তার হত্যা মামলার বাদী সাহেব আলী আকুঞ্জি আমার ভাই কাজী আসাফুজ্জামান বাবুলের বিরুদ্ধে রামপাল সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী ১৮৪/১৪ নং মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া আমার আরেক ভাই কাজী আহসানুজ্জামান বাদী হয়ে সাহেব আলী আকুঞ্জির বিরুদ্ধে দেওয়ানী ৩৯/১৫ নং মামলা করেছেন। এছাড়া জমাজমি নিয়ে বিরোধের কারণে সাহেব আলী আকুঞ্জি বাদী হয়ে আমিসহ আমার ভাই কাজী আহসানুজ্জামান ও আমার একমাত্র ছেলে কাজী আসিফুজ্জামান তানভীরের নামে জি আর ১৯/১৬ নং মিথ্যা মামলা দায়ের করে যা আদালতের রায়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

মামলাবাজ হিসেবে খ্যাত সাহেব আলী আকুঞ্জি আমার ভাইয়ের শ্বশুর আবু হানিফ হত্যা মামলার একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। জমাজমি ও শ্বশুরের মামলার কারণে আমার ভাইয়ের ব্যাক্তিগত বিরোধে সাহেব আলী আকুঞ্জি আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেছে। নিহত খাজা মঈন উদ্দিনের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, ভাই বোন থাকা সত্তেও তারা কেউ বাদী হয়নি। বরং সাহেব আলী আকুঞ্জি অতি উৎসাহিত হয়ে হত্যা মামলার বাদী হয়ে তার ব্যক্তিগত আক্রোষ নিবারণ করতে আমার ভাইকে আসামী করে তার ও আমাদের পরিবারের সুনাম, সামাজিক মান মর্যাদা ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে।

আমরা জানতে পেরেছি যে, রামপাল বিমান বন্দর অধিগ্রহণে আমার ভাইয়ের রেকর্ডীয় ও ভোগদখলীয় জমি (চাচুরী মৌজায়) যা আমার ভাইয়ের নামে অধিগ্রহণের এ্যাওয়ার্ড প্রস্তুত হয়েছে। ফলে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে ওই জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা চালাচ্ছে মামলাবাজ সাহেব আলী আকুঞ্জি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী আসফুজ্জামান বাবুল এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি বর্তমানে উজলকুড় ঝালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, চাঁদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, সোনাতুনিয়া আজিজিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *