May 30, 2024
জাতীয়

রাজধানীতে শিল্পপতির বাসায় দু’জনকে জবাই করে হত্যা

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

রাজধানীর ধানমন্ডির এক শিল্পপতির বাসা থেকে গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহকর্ত্রীর নাম আফরোজা বেগম (৬৫) ও গৃহকর্মীর নাম দিতি (২০)। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি ২৮ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ জানান, খবর পেয়ে ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ দু’টি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।

বিকেল চারটার পর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ধারণা করে তিনি আরো বলেন, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রসঙ্গে এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ধানমন্ডি থাকার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক জানান, এ ঘটনায় ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে তার নাম বলেননি এসআই।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার বাড়িটির ওই ফ্ল্যাটে নতুন একজন গৃহকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর নতুন রাখা ওই গৃহকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাড়িটির নিরাপত্তাকর্মী নুরুজ্জামান বলেন, ‘আফরোজা বেগমের স্বামীর নাম হিরন শেফ। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। এই বাড়ির চার ও পাঁচতলায় তাদের দুটি ফ্ল্যাট। চার তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন আফরোজা ও গৃহপরিচারিকা দিতি। উপরের ফ্ল্যাটে থাকতেন তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা ও জামাই মনির উদ্দিন তারিম। শুক্রবার বিকাল ৩টায় আফরোজা বেগমের জামাই মনিরের পিএস বাচ্চু এক নারীকে নিয়ে বাসায় আসেন। ওই নারী বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার কথা বলে বাচ্চুর সঙ্গে ওপরে যায়। এরপর ৬টার দিকে বাচ্চু একবার লুঙ্গি পরে নিচে নামে। এর কিছুক্ষণ পর ওই নারী চলে যায়। তারপর বাচ্চুও প্যান্ট-শার্ট পরে চলে যায়। তারপর ওপর থেকে আমাকে একটা ছেলে ফোন দিয়ে জানায় খালাম্মা মারা গেছে। এরপর লোকজন আসে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মনির উদ্দিন নামের এক শিল্পপতির ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর একজন পরিচালক। তিনি টিনটেক নামের একটি গার্মেন্টসের মালিক। ছয়তলা ভবনটির এফ-৪ ফ্ল্যাটে এই ঘটনা ঘটেছে। ফ্ল্যাটে মনির উদ্দিনের শাশুড়ি ও গৃহকর্মী থাকতেন। ভবনে মনিরের মালিকানাধীন মোট চারটি ফ্ল্যাট আছে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *