মাহিন্দা রাজাপক্ষের ভারতে আশ্রয় নেওয়ার খবর ‘গুজব’

শ্রীলঙ্কায় চরম অর্থসংকটের জেরে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে। এদিকে তার পদত্যাগের পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনিসহ দেশটির অনেক রাজনৈতিক নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খবর দিয়েছে।

তবে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এসব খবর নিছক গুজব, এর কোনো সত্যতা নেই। খবর এনডিটিভি

মঙ্গলবার (১০ মে) কলম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশন এক টুইট বার্তায় জানায়, শ্রীলঙ্কার কয়েকজন রাজনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভারতে পালিয়েছেন—সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়েছে বলে তাদের নজরে এসেছে। তবে এসব তথ্যের কোনো সত্যতা নেই। হাইকমিশন এমন প্রচারণার নিন্দা জানাচ্ছে।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের নীতিগত অবস্থান ব্যাখা করেছে ভারত। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, শ্রীলংকার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে ভারত। গণতান্ত্রিক উপায়ে সেদেশের জনগণ যা চাইবেন, ভারত তা রক্ষায় সচেষ্ট হবে।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারির পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট চলছে দেশটিতে। ব্যাপকভাবে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। এমন পরিস্থিতিতে সরকার পতনের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় বিক্ষোভ করছেন দেশটির সাধারণ মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে সোমবার ৯ মে) তুমুল বিক্ষোভের মুখে বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। কিন্তু তাতেও দেশটিতে জনরোষ কমেনি। রাতে হাজারো বিক্ষোভকারী রাজধানী কলম্বোয় রাজাপক্ষের বাসভবন ‘টেম্পল ট্রিজ’এর মূল ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং মূল দোতলা ভবনে হামলার চেষ্টা করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে আটকা পড়েন। পরে মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই সেনা পাহারায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে ওই বাসভবন ছেড়ে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিঙ্কোমালি শহরে একটি নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নেন তিনি। কিন্তিু সেই নৌঘাঁটিও ঘিরে রেখে বিক্ষোভ করছেন ক্ষুব্ধ শ্রীলঙ্কাবাসী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের পর তার ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষেরও পদত্যাগের দাবি তুলেছেন বিরোধীরা।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.