বিশ্ব ইজতেমায় উস্কানিমূলক বক্তব্য নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় উস্কানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন। গতকাল বুধবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি কাজের অগ্রগতি বিষয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কেউ ইজতেমার বয়ানে কিংবা মাঠের মধ্যে কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য দেবেন না। কেউ কারো বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করা হচ্ছে। তারপরও কেউ উস্কানিমূলক দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়দানে আমাদের সাদা পোশাকে যথেষ্ট নিরাপত্তাবাহিনী সজাগ থাকবেন। আপনাদের সেবার জন্য মন্ত্রী, এমপি, এসপি, আমরা সকলেই প্রস্তুত আছি।
নিরাপত্তা বাহিনী আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ, অনেক দক্ষ; যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে উলে­খ করে তিনি বলেন, কোনো অপপ্রচারও যদি কেউ করে থাকেন তাকে আমরা এখন তাৎক্ষণিক শনাক্ত করতে পারছি। তাই সবাইকে অনুরোধ করব কেউ আপনারা উস্কানিমূলক, বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য, বক্তব্য করবেন না, সেটা ফেসবুক হউক আর সম্মূখে হউক। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার জন্য আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তৈরি রয়েছে।
বিদেশিদের ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে তাবলীগের দুই মারকাজের তালিকা ও অনুরোধ অনুযায়ী ভারতীয় দূতাবাস থেকে ভিসা সহজীকরণের আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, দুই মারকাজের লিস্ট অনুযায়ী যারা যারা ভিসার আবেদন করবেন তাদের সবাইকে ভিসা দিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতে যে আমাদের রাষ্ট্রদূত আছে তাকে আমরা বলে দেব। এছাড়া পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে যদি কোনো মুসলির ব্যাপারে অনুরোধ থাকলে তাদের ভিসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি এক আমেরিকান ও আফ্রিকান একটি দেশের মুসলি­কে ভিসা দেওয়ার প্রসঙ্গ উলে­খ করেন।
এ ধরনের রিকুয়েস্ট থাকলে আপনারা লিখিতভাবে আমাদের কাছে দেবেন, আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব যাতে তাদের ভিসার কোনো অসুবিধা না হয়। আপত্তিকর পোস্টার অপসারণ, মাঠে পানি ছিটানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি স্থানীয় মেয়র ও জেলা প্রশাসককে নির্দেশও দিয়েছেন।
মুরুব্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুই পক্ষের সমঝোতা স্মারক অনুয়ায়ী আপনারা চলবেন। ইজতেমায় কে আসবেন কে আসবেন না তা আগেই কথা হয়েছে, এসব নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলার নেই।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী দুই পক্ষের মুসলি­রা মাঠে আসবেন এবং মাঠ ত্যাগ করবেন। মাঠে নিরাপত্তা রক্ষায় ১৯ সদস্যের একটি নিরাপত্তা সেল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মাঠ প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আগামী দুইদিনের মধ্যে তা শেষ হয়ে হবে, বলেন তিনি।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠনে অন্যান্যের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল­াহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, পুলিশ সুপার শাসসুন্নাহার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাসেল বলেন, এবারের ইজতেমা অনিশ্চিয়তার মধ্যে চলে গিয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ইজতেমার বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইজতেমা মাঠের সকল প্রস্তুতি সুসম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেট, প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, তুরাগ নদী পারাপারে পন্টুন নির্মাণসহ সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ইজতেমা চলাকালে গাজীপুরের মূল সড়কে বিআরটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ইজতেমায় অন্য বছরের তুলনায় এবার বেশি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এবার ইজতেমা এলাকার ‘নিরাপত্তার চোখ’ সিসি ক্যামেরা আগের চেয়ে বছরগুলোর চেয়ে অনেক বাড়ানো হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও বেশি মোতায়েন থাকবে।
র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ইজতেমা শুরুর ১৫দিন আগে থেকেই ব্যাপক ইজতেমা এলাকায় ব্যপক নজরদারি শুরু করা হয়েছে। ইজতেমায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্যদের তৎপরতা বাড়ানো হবে।
আগামী ১৫ ফেব্র“য়ারি টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের সবচেয়ে বড় সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমা। চার দিন চলবে এই ধর্মীয় সভা। প্রথম দুই দিন মাওলানা জোবায়ের ও পরের দুই দিন সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের ব্যবস্থাপনায় ইজতেমা হবে।
নেতৃত্ব নিয়ে দিলি­র নিজামুদ্দিন মারকাজ এবং দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারীদের মধ্যে এই দ্ব›দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে গত বছর জানুয়ারিতে ঢাকায় বিশ্ব ইজতেমার সময়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসা সাদ কান্ধলভি বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ইজতেমায় অংশ না নিয়েই তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়।
এরপর দুই পক্ষের কোন্দল চলতে থাকলে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে নির্ধারিত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব গত নির্বাচনের আগে স্থগিত করা হয়। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তাবলিগের দুই পক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল­াহ নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.