বিশ্বকাপে সবার সেরা সাকিব

 

ক্রীড়া ডেস্ক

ধারাবাহিকভাবে ব্যাট-বল হাতে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপের চার ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি আর দুটি হাফসেঞ্চুরি করে এরইমধ্যে করে ফেলেছেন ৩৮৪ রান। বল হাতেও দলের পক্ষে বেশ দারুন ভূমিকা পালন করছেন বিশ্বসেরা টাইগার অলরাউন্ডার। ৫.৮৪ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। দুই ম্যাচে হয়েছেন ম্যাচসেরাও।

বিশ্বসেরা এই টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকেই বিশ্বকাপে খেলা সবার পারফরম্যান্স বিচারে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে উলে­খ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

‘বাংলাদেশ তারকা সাকিব আল হাসান কেন অবিসংবাদিতভাবে ২০১৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়’ শিরোনামের ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৫০ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে শুধু একজনই যুক্তিসংগতভাবে তার দেশের সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলার। তিনি সাকিব আল হাসান, ২০১৯ বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত অবিসংবাদিত সেরা খেলোয়াড়।

টেলিগ্রাফের ভাষ্যমতে, সাকিবকে প্রাপ্য মূল্য না দেয়ার একটা প্রবণতা আছে। এটা অদ্ভুত ও রহস্যময়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, আইপিএলসহ বিভিন্ন লিগে তার খেলা উপভোগ করেন ভক্ত-সমর্থকেরা। ২০১৫ সালে তিন ফরম্যাটে আইসিসি র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিলেন তিনি। সাকিব ক্রিকেটে কোনো ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাই তার বহুবিধ প্রতিভাকে অনেকে সহজে উপেক্ষা করেন। অন্যতম উদাহরণ, ২০১১ সালের পর টাইগারদের সঙ্গে কেবল একটি ওয়ানডে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সঙ্গে সাকিবের ক্রিকেটে আসার যোগসূত্রও রয়েছে উলে­খ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিকেএসপিতে ঢোকার ছয় বছর পর জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে সাকিবের। বাংলাদেশ তখন টুকটাক জেতা শুরু করেছে। অর্থাৎ টানা ৪৫ ওয়ানডে হারের সেই অন্ধকার সময়ের দুই বছর পর জাতীয় দলে অভিষেক সাকিবের। এরপর স্বভাবজাত ব্যাটিং ও বাঁহাতি বিচক্ষণ স্পিনে শিগগির দলের অপরিহার্য সদস্যে পরিণত হন তিনি। সাকিবের ক্রিকেটে আসা বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা বিকাশে পরবর্তী ভিত্তি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাকিব সবসময় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেন। ধারাবাহিকভাবে জ্বলে ওঠেন। তবুও ২০১৪ সালে কোচের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ছয় মাস নিষিদ্ধ হন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডই (বিসিবি) তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে সাকিব এখন পরিণত। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবেও সফল বাংলাদেশের নয়নমণি। সাকিব তার আত্মবিশ্বাস, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং লড়াকু মানসিকতা দিয়ে সহজেই তা করে আসছেন।

আরো বলা হয়, দলের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেন সাকিব। পাওয়ার প্লেতে নিয়মিত বল করেন। শেষদিকেও তার বোলিংয়ের নজির আছে। ওয়ানডেতে এখন তিন নম্বরে ব্যাটিং করছেন। আগে করতেন মিডলঅর্ডারে। দুই জায়গাতেই সফল। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। আর সাকিবের উদযাপনটা সাদামাটা। উইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করেও তার উদযাপন ছিল খুবই সরল-সহজ। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়ার পর নন-স্ট্রাইকে থাকা লিটন দাসের সঙ্গে কেবল হাত মেলান। প্রত্যেক দলের বিপক্ষে নিজের সেরাটা দেয়াই তার ধ্যানজ্ঞান।

 

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.