বিশ্বকাপের আগে আফগানিস্তানের অধিনায়ক বদল

 

 

ক্রীড়া ডেস্ক

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আগে আফগানিস্তানের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আসগর আফগানকে। তার বদলে নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়েছে গুলবাদিন নাইবকে।

শুধু ওয়ানডে নয়, সব ফরম্যাটেই অধিনায়কত্বে বদল এনেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। আগে তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক ছিলেন আসগর। এখন ওয়ানডেতে নাইব, টেস্টে রহমত শাহ আর টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন রশিদ খান।

আফগানিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ এখন ওয়ানডের সহ-অধিনায়কও। টেস্টের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে হাসমতউল­াহ শহিদিকে। আর টি-টোয়েন্টিতে রশিদের সহকারি হিসেবে থাকবেন শফিকউল­াহ।

নতুন তিন অধিনায়কের বয়সই ৩০-এর নিচে। রশিদের ২০, রহমতের ২৫ ও নাইবের ২৮ বছর। অধিনায়কত্ব হারানো আসগর গত ডিসেম্বরে ৩১ বছর পা দিয়েছেন। এসিবির চেয়ারম্যান আজিজউল­াহ ফাজলির মতে, অধিনায়কত্বের বদল তরুণ অধিনায়কদের জন্য ভালো সুযোগ, যারা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।

আজিজউল­াহ ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ আমাদের নয় পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। সুতরাং আমরা মনে করেছি, নেতৃত্ব বদলের এটাই ভালো সময়।’ অধিনায়কত্ব হারানো আসগর দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে খেলা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

২০১৫ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোহাম্মদ নবী। বিশ্বকাপের পরপরই তাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আসগরকে। তখন অবশ্য তার নাম ছিল আসগর স্টানিকজাই। পরে তিনি নাম বদলে ফেলেন।

আসগরের অধীনে বেশ সফল ছিল আফগানিস্তান। এই সময়ে তারা আইসিসির পূর্ণ সদস্য হয়েছে, প্রথম টেস্ট খেলেছে ভারতের বিপক্ষে, প্রথম টেস্ট জিতেছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে আসগরের নেতৃত্বে ৫৬ ওয়ানডে, ৪৬টি-টোয়েন্টি ও ২টি টেস্ট খেলেছে আফগানিস্তান।

নতুন তিন অধিনায়কের মধ্যে শুধু রশিদেরই শীর্ষ পর্যায়ে অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত বছর জিম্বাবুয়েতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আসগরের অনুপস্থিতিতে আফগানিস্তানকে রশিদ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চার ম্যাচে, যার তিনটিই তারা হেরেছিল।

বর্তমানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে খেলা রশিদ ব্যান্ড-ই-আমির ড্রাগনস ও কাবুল জেডওয়ানানকে ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে জয় ১০টি, হার ৬টি।

টেস্টের অধিনায়কত্ব পাওয়া রহমতের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নেই। চারটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে হেরেছেন চারটিই।

বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করতে যাওয়া নাইবেরও তেমন একটা নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নেই। তিনি দুটি আলাদা দলকে ২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ও ৯টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আগামী ১ জুন ব্রিস্টলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আফগানিস্তান।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *