বিমানবন্দরে নারী ফুটবলারদের লাগেজ চুরির প্রমাণ পায়নি কর্তৃপক্ষ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দুই খেলোয়াড়ের লাগেজ থেকে অর্থ চুরির অভিযোগ এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেছে। এতে ঘটনার সত্যতা প্রতীয়মান হয়নি। গতকাল দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে বিজি-৩৭২ ফ্লাইট কাঠমান্ডু থেকে এসে ঢাকায় অবতরণ করে। পরে বাফুফের প্রটোকল প্রতিনিধি ইমরান এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল দলের দুই নারী সদস্যের ব্যাগ (হোল্ড ব্যাগেজ) থেকে অর্থ (ডলার এবং টাকা) চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা পায়নি।

এতে আরও বলা হয়, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, বাফুফে প্রটোকল প্রতিনিধি ও দুজন টিম সদস্য অক্ষত এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় লাগেজগুলো বুঝে নেন। তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাগেজগুলো বুঝে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

জানা গেছে, কৃষ্ণার লাগেজের তালা ভেঙে ৯০০ মার্কিন ডলার ও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। অন্যদিকে শামসুন্নাহারের লাগেজ কেটে নিয়েছে ৪০০ মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে এই দুই ফুটবলারের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে আমরা বিমানবন্দর এলাকার একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছি।

বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক পলাশ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সংবাদ পাওয়ার পর স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করছি।

গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকরামুল হোসেন বলেন, এরই মধ্যে ডিবির ইউনিট কাজ শুরু করেছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নেপালে সাফ মিশন শেষ করে বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেশে ফেরে নারী ফুটবল দল। ফেরার পরপরই জয়ী দলের সদস্যের অর্থ চুরির ঘটনা দুঃখজনক এবং মর্মান্তিক। এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে এরই মধ্যে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বুধবার রাতে বাফুফে ভবনে লাগেজ আসার পর চুরির ঘটনা দৃষ্টিগোচর হয়েছে ফুটবলারদের। কৃষ্ণা রানী সরকার ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। শামসুন্নাহার প্রতি ম্যাচেই একাদশে খেলেছেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.