‘বিএনপি-জামায়াত বিচ্ছেদ প্রেমিক-প্রেমিকার কৌশল’

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী আর বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকছে না বলে যে খবর একটি সংবাদপত্রে এসেছে, তা ‘সমাজে বাধাপ্রাপ্ত প্রেমিক-প্রেমিকার কৌশল’ কি না- সেই প্রশ্ন রেখেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের এমন মন্তব্য আসে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত আলাদা হয়ে যাচ্ছে পত্রিকায় এই খবর বেরিয়েছে। ভেতরের খবর দেখতে পেলাম জামায়াত প্রকৃতপক্ষে বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে, অর্থাৎ বিএনপি ছাড়তে চায় না ওদেরকে, জামায়াত ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপির সঙ্গে আর জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এই সিদ্ধান্তের কথা দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে না। বিএনপির সঙ্গ ছাড়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তারা ২০-দলীয় জোটের কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকবে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রেম যখন খুব গভীর হয়, সমাজ থেকে যখন বাধাপ্রাপ্ত হয়, তখন প্রেমিক-প্রেমিকা নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে, এটাও তাদের মধ্যে সে ধরনের কোনো কৌশল কি না আমি জানি না।
তিনি বলেন, বিএনপি যদি জামায়াতকে ত্যাগ করত, যুদ্ধাপরাধী দলের সাথে এতদিন যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন, আন্দোলন, ২০ বছর ধরে যুদ্ধাপরাধী দলের সঙ্গে যে সংসার ‘আমরা ভুল করেছি, আমাদের এখন উপলব্ধি হয়েছে যুদ্ধাপরাধী দলের সঙ্গে থাকব না’- এমন ঘোষণা দিয়ে যদি বিএনপি তাদের জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেয়, তবেই তাদের সাধুবাদ জানাব।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন, তা ‘সমীচীন হয়নি’ বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বা কোনো বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই। এ এখতিয়ার আদালতের।
রিজভী বারবার একই আহŸান জানিয়ে প্রকৃতপক্ষে আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আইন আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন, যা সমীচীন নয়; যা দেশের আইনের শাসনকে, আইন-আদালতকে প্রকৃতপক্ষে আন্ডারমাইন করা হচ্ছে। তার কথায় মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বও পালন করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বন্দি যদি তার দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে মার্জনা চান, তাহলে রাষ্ট্রপতি মর্জানা করে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। বিএনপি যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়, তাহলে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের এগোতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে না গিয়ে তারা যদি অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি চান, সেটি সম্ভবপর নয়।
খালেদা জিয়া তার দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি চাইলে ক্ষমা করতে পারেন, তার মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারেন, এর বাইরে অন্য কোনো সুযোগ নেই।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.