বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দুই নেতার

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির পর কাউন্সিল ডেকে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব এসেছে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতার কাছ থেকে। জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার এক আলোচনা সভায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদের বক্তব্যে সরাসরি দল পুনর্গঠনের কথা আসে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে অল্প কিছু নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এই আলোচনা সভায় সভাপতির আসনে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। তুলনামূলকভাবে ত্যাগী, যারা পরীক্ষিত নেতা-কর্মী, তাদেরকে নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিত হয়েছি, আমাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে তরুণদের জন্য। তাহলেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে।
দলের নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারাগারে যাওয়ার পর গভীর সঙ্কটে পড়া বিএনপি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট গড়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন সুদিনে ফেরার আশায়।
কিন্তু গত ৩০ ডিসেম্বরের ভেটে মাত্র ছয়টি আসনে জয়ের দেখা পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। দলটির চার দশকের ইতিহাসে আর কখনও এত বাজে ফল হয়নি। অন্যদিকে রেকর্ড ভোটে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করেছে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। বিএনপি ও তাদের জোট ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্র্নিবাচন দাবি করলেও নির্বাচন কমিশন তা নাকচ করে দিয়েছে।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ২০০৮ সালে এমনিভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরাজিত হয়েছিলাম। তার পরপর কিন্তু আমরা দলের কাউন্সিল করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম এবং সারা দেশে আমাদের নেতা-কর্মীরা সাহসের সাথে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সেটার প্রমাণ হল ৩০ তারিখে, সরকার ভোট করতে সাহস পেল না। এ অবস্থা থেকে বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দল পুনর্গঠনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন স্থায়ী কমিটির এই নেতা।
মোশাররফের আগে বক্তব্য দিতে এসে স্থায়ী কমিটির আরেক নেতা মওদুদ আহমদ বলেন, যারা এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের সামনের দিকে এনে দল পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমরা যারা, আমাদের বয়স হয়ে গেছে, আমরা সরে যাব। তারপরেও এই দলটাকে তো রাখতে হবে। এর একমাত্র উপায় হল পুনর্গঠন করা। এই কাজ আমাদের কয়েক মাসের মধ্যেই করতে হবে। তাহলেই আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। সেটি ছিল ষষ্ঠ কাউন্সিল। তাতে দলের চেয়ারপারসন পদে খালেদা জিয়া এবং জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান পদে তার ছেলে তারেক রহমান পুনর্র্নিবাচিত হন। দীরন্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলতে পুরোপুরি মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
গত প্রায় তিন যুগ বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসা খালেদা জিয়া গত দশ মাস ধরে কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এক যুগ ধরে। তিন মামলায় সাজার রায় মাথায় নিয়ে তারেকের ফেরার কোনো আশা বিএনপিকর্মীরা দেখছেন না। গত ফেব্র“য়ারি থেকে স্থায়ী কমিটির নেতাদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই কার্যত দল চালিয়ে আসছেন।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ফখরুল বলেন, অন্ধকারের মধ্য থেকেই আলোতে উঠে আসতে হবে। যে কথা বিজ্ঞ আলোচকরা বলেছেন, এখন তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে, যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। এই দেশটা আপনাদের, আপনাদেরকে সেটা রক্ষা করতে হবে।
তরুণদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোটের অধিকার আপনাদের, আপনাদের সেটা রক্ষা করতে হবে। ভবিষ্যত আপনারাই, আপনারাই দেশকে রক্ষা করবেন- জিয়াউর রহমান সেটাই আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন- সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া, পরাজিত না হওয়া। পরাজিত বোধ করলেই পরাজিত।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *