বটিয়াঘাটায় বেদখল হয়ে যাচ্ছে পাউবি’র ভূমি অধিগ্রহণের জমি

 

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি

দিনের পর দিন বেদখল হয়ে যাচ্ছে বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের গাওঘরা বাজার সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর ৩১নং পোল্ডারের ভূমি অধিগ্রহণের জমি। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে অধিগ্রহণকৃত এ জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধুু কর্মকর্তা কর্মচারীর উদাসিনতার কারণে এ সকল জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে রাতারাতি। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, মহানগরী খুলনা সংলগ্ন প্রবেশদ্বার এ উপজেলা বটিয়াঘাটা থেকে সুরখালী ইউনিয়নের গাওঘরা বাজারের দূরত্ব মাত্র ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। গাওঘরা বাজারটি বয়ে গেছে পাউবোর ৩১নং পোল্ডারের এস,এ-১১৫ নং ও আর,এস-৩০ নং দাগের উপর দিয়ে। বাজারটিতে ঢুকতেই দৃশ্যমান হবে পাউবোর অধিগ্রহণকৃত ৪১শতক জায়গার উপর বিশাল পাকা ইমারত।

স্থানীয় অধিবাসী জনৈক শহীদুল গাজী প্রিতম মাল্টি নামে ১টি বিজনেস সেন্টারের সাইনবোর্ড তুলে বিশাল গোডাউন ও ইমারত নামে ব্যবসায়িক সেন্টার খাড়া করে দিয়েছে। ভবনের ঢালাইকৃত অংশের ভবনের নিচেই দৃশ্যমান হবে পাউবোর অধিগ্রহণকৃত জায়গা। পানি সরবরাহের ড্রেন পাইপ এর উপর বিশাল আলিসশ্বান ভবন। শুধু তাই নয় তার পূর্বেই দৃশ্যমান হবে পাউবোর জায়গার উপর আর এক বিশাল গোডাউন। সরকারি সার ডিলারের জনৈক এক ব্যক্তি তার সার মজুদ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খাঁড়া করতে আরেকটি ভবণ নির্মান করেছে। দিনের পর দিন পাউবোর সরকারি জায়গার উপর একাধিক ভবন নির্মান করে চললেও পাউবোর শাখা কর্মকর্তা, সাবডিভিশনাল প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী রয়েছে নিশ্চুপ। তাদের এই নিশ্চুপতায় পাউবোর জমি অধিগ্রহণের পূর্বে অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত মালিকদের গাত্রদাহ বাড়তে শুরু করেছে। তাদের এ গাত্রদাহ উপেক্ষা করে পাউবোর কথিত কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজসে স্থানীয় কিছু টাউট ও বাটপারেরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় প্রকৃত দাবীদারদের উপক্ষো করে অনৈতিক ভাবে পাউবোর অধিকগ্রহণকৃত জায়গা বাহুশক্তিরবলে দিনের পর দিন বেদখল করে নিচ্ছে। দখলবাজরা আর,এস জরিপের মাধ্যমে সরকারি ঐ সকল জায়গা পাউবোর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ করে এবং রাজনৈতিক নেতাদের ভয় দেখিয়ে সরকারি অধিগ্রহণকৃত জায়গা রাতারাতি দখল করে নিচ্ছে। দিনের পর দিন সরকারি এ সম্পদ বেদখল হতে থাকলে রাষ্ট্রের সকল সম্পদই যে, ব্যক্তি মালিকানায় পরিণত হবে তা শুধু বলারই অপেক্ষা মাত্র।

এ ব্যাপারে পাউবোর জায়গার উপর বিশাল ইমারত হাঁকিয়ে দেওয়া প্রিতম মাল্টি বিজিনেস সেন্টারের স্বত্তাধিকারী শহীদুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, জায়গাটি পাউবোর অধিগ্রহণকৃত হলেও বর্তমানে এটা আমার নামে আর,এস জরিপে রেকর্ড ভুক্ত। যে কারণে পাকা ভবন তুলছি।

অন্যদিকে পাউবো-২ এর শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ রুবেল এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, শুনেছি ঐ এলাকায় ১টি গোডাউন ভবন নির্মান করা হচ্ছে এবং আরও দুইটি কাঁচাপাকা ভবন নির্মান করা হয়েছে যা আমাদের দপ্তরের অধিগ্রহণকৃত জায়গার উপর। জানতে পেরেই একের পর এক নোটিশ জারি করা শুরু করেছি। সরকারি অধিগ্রহনের জায়গা বেদখল হতে অনতিবিলম্বে  প্রশাসনের সহযোগীতায় মুক্ত করা হবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *