বঙ্গবন্ধুর প্রতি সুবর্ণ নাগরিক রাহাতের অকৃত্রিম প্রেম

দ. প্রতিবেদক
নিজেকে মুজিব সেনা বলতে ভালবাসে। ছোট বেলায় ছাত্রনেতা মামার কাছে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনতে শুনতে তার এই শ্রদ্ধা আর ভালবাসা জন্ম নিয়েছে। তার জন্মদিনে কেউ কোন উপহার দিলে সে বলে, এসব দিতে হবে না। আমাকে বঙ্গবন্ধুর ছবি দাও। পড়া মনে রাখতে না পারলেও পাশ করেছে এসএসসি। রয়েছে কন্ঠে জড়তা এবং দৃষ্টিতেও রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। মুখস্থ করেছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। মুজিব শতবর্ষ উদযাপনে যার ছিল মহাপরিকল্পনা। করোনার কারনে সে আয়োজন করতে না পারায় অনেক ভাবগম্ভীর ছিল এই ১৬ বছর বয়সী সুবর্ণ নাগরিক শামসুল ইয়ামিন রাহাত।
বাড়ির সামনে টাঙিয়ে রেখেছে মুজিববর্ষের ব্যানার। খুলনা মহানগরীর মিয়াপাড়া হয়ে যাওয়ার পথে সকলেরই মন কাড়ে এ ব্যানার। যা টাঙানো রয়েছে মুজিববর্ষের শুরু থেকেই। তৈরি করেছে মুজিববর্ষ নামে ফেসবুক গ্রুপ। যার মাধ্যমে সকলকে জানায় আমন্ত্রণ। অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ছেলের এমন কর্মকান্ডে কষ্ট পান না, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়র কর্মরত মা রোকসানা ইয়াসমিন এবং বাবা মো. শামসুদ্দিন। তাইতো ছেলের আবদার পূরণ করতে মুজিববর্ষ পালনে ঘরোয়া আয়োজন করেন তারা। আর এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কর্মী এ্যাড. মিনা মিজানুর রহমান, ছাত্রনেতা এবং খুলনা শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল-আমিন রাকিব, ইউসেপ বাংলাদেশ খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র অফিসার নাসরিন আক্তার এবং অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মো. সাইফুল ইসলাম।
সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কর্মী এ্যাড. মিনা মিজানুর রহমান জানান, এতো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রাহাত বঙ্গবন্ধুকে আকড়ে ধরেছে। বঙ্গবন্ধুকে সে অনেক ভালবাসে। আমি তার সাথে কথা বলে, বুঝতে পেরেছি, সে সারাদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই তার কথা, আলোচনা। এই বয়সের ছেলে-মেয়েরা ফেসবুক, মোবাইল নিয়ে থাকে। কিন্তু যে অন্যরকম। তার সব ধ্যান যেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে।
সাবেক ছাত্রনেতা এবং খুলনা শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল-আমিন রাকিব জানান, আমরা রাজনীতি করছি ছাত্র বয়স থেকেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে রাহাত যে পরিমান ভালবাসে তা অকল্পনীয়। বঙ্গবন্ধুর গল্প বললে সে চুপ করে শোনে। আসলে এমন নেতাকে ভালবাসলে রাহাতের মতো করেই ভালবাসতে হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি রাহাতের এ ভালবাসা আমাদেরকেও হার মানায়।
রাহাতের মা রোকসানা ইয়াসমিন জানান, ছোট বেলা থেকে রাহাত বঙ্গবন্ধুকে খুব ভালবাসে। ও দুষ্টামি করলে আমরা বলতাম, বঙ্গবন্ধু অনেক শান্ত ছিলেন, বাবা-মায়ের কথা শুনতেন। তখন ও চুপ করে যেত। আমার সন্তানকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে। সবাই তাকে সহ্য করতে পারে না। বাইরে কারো সাথে মিশতে বা খেলতেও পারে না। সারাদিন ঘরে থাকে আর বঙ্গবন্ধুর ছবি, বই আর বক্তব্য শোনে। ৭ই মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এবং বিশেষ বিশেষ দিনে দুরে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য মাইকে ভেসে আসে। তখন বাসায় ও (রাহাত) আমাদেরকে কোন কথা বলতে দেয় না। সেও নিরিবিলি থাকে, বক্তব্য শোনে। অনেকে তাকে পাগল বলে, কিন্তু আমিতো মা, আমি জানি আমার ছেলে কি! সে এখন স্বপ্ন দেখে বঙ্গবন্ধু কন্যার শেখ হাসিনার সাথে দেখা করবে।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন/ এম জে এফ

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *