ফেনীতে নিখোঁজ কিশোরের মাটিচাপা লাশ, আটক ২

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
ফেনী শহরে একদিন আগে নিখোঁজ এক স্কুল ছাত্রের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক কিশোরের মা ও ভাইকে পুলিশ আটক করেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের পাঠানবাড়ি এলাকায় জিবি টাওয়ারের পাশে পরিত্যক্ত খালি জায়গায় আরাফাত হোসেনের (১৩) মাটিচাপা লাশ পাওয়া যায়। রোববার বিকালে খেলতে গিয়ে আরাফাত হোসেন নিখোঁজ হয়েছিল। আরাফাত হোসেন ফেনী পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ও কুয়েত প্রবাসী জসিম উদ্দিনের ছেলে। তারা শহরের পাঠান বাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত।
নিহত আরাফাতের মামা এরশাদ হোসেন বলেন, পাঠান বাড়ি এলাকার বখাটে এক কিশোরের সঙ্গে আরাফাত হোসেনের খেলাধুলা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে বখাটে ওই কিশোর রোববার সন্ধ্যায় আরাফাতকে খেলার মাঠ থেকে ডেকে অন্যত্র নিয়ে যায়। পরে ওই এলাকার জেবি টাওয়ারের পাশের পরিত্যক্ত নির্জন জায়গায় স্থানীয়রা ওই বখাটে কিশোরকে দেখতে পেয়ে আরাফাতের বিষয়ে জানতে চায়। এ সময় সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এরশাদ আরও বলেন, পরে আরাফাতকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে স্বজনরা ফেনী মডেল থানায় অভিযোগ করেন। সোমবার আরাফাতের স্বজনসহ স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ওই পরিত্যক্ত জায়গার এক কোণে মাটিতে একটি পা দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। ওই বখাটে কিশোরই আরাফাতকে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দিয়েছে বলে এরশাদের অভিযোগ।
ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করলে স্বজনরা আরাফাতের মরদেহ শনাক্ত করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, রোববার রাতে দুর্বৃত্তরা মাথায় আঘাতের মাধ্যমে আরাফাতের মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ওই স্থানে মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে পুরোনো কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে আরাফাতকে হত্যা করা হয়েছে।
ওসি জানান, ঘটনার পর থেকে ওই কিশোর পলাতক থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তার মা ও ভাইকে আটক করেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার ক্লু উদঘাটন করে হত্যার সাথে জড়িত প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.