February 25, 2024
আঞ্চলিক

ফুলবাড়ীগেট-তেলিগাতী সড়কে খানাখন্দে ভারী যান চলাচল বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

মিয়া বদরুল আলম

ফুলবাড়ীগেট-তেলিগাতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং এবং খোয়া উঠে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়ে কুয়েটসহ বিভাগীয় ছয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম জনদুূভোর্গের মধ্যে রয়েছে। সড়কটির তিন/চারটি স্থানে রাস্তা জুড়ে গর্তে পরিণত হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল এক প্রকার বন্ধ হয়েগেছে। ব্যস্ততম সড়কটির খানাখন্দের মধ্যে পড়ে প্রতিদিন ইজিবাইকসহ ছোট যানগুলো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বিকল হয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভাগীয় সরকারি বহু প্রতিষ্ঠানের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত বেহাল অবস্থা বিরাজ করায় চলাচলের প্রায় অনুপোযোগি হয়ে জনদূর্ভোগে পতিত হয়ে সর্ব মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কেডিএ কর্তৃপক্ষ জমি অধিকগ্রহনের মাধ্যমে ১৯৮৭/৮৮ সালে সড়ক নির্মাণ করে। দীর্ঘ ৩৩ বছর পরে গত ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এলজিডির তত্বাবধানে সড়কটির কুয়েট মেইনগেট থেকে তেলিগাতি পাকার মাথা পর্যন্ত পুন.নির্মাণ কাজ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে পুনঃনির্মাণ কাজ করার সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তা খুড়ে রাস্তার নিচ থেকে সলিংয়ের ইট তুলে ফেলে ধুলাবালু ভরাট করে নামমাত্র কম্পেকশন করে। সলিংয়ে বিছানো পুরাতন ইট ভেঙ্গে রাস্তায় কাজে ব্যবহার করে। স্থানীয়রা সড়কটির পুন.নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও নিন্মমানের মালামাল, কার্পেটিংয়ে সঠিক মাত্রার বিটুমিন এবং থিথনেছ সঠিক মাত্রায় না দেওয়ায় সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক ও এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী সহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ীগেট থেকে তেলিগাতী পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানের কার্পের্টিং এবং খোয়া উঠে শতশত খানাখন্দে পরিনত হয়েছে। কুয়েট মেইনগেট, খানাবাড়ী নারিকেল তলা, ল্যাবরেটরী স্কুল মোড় এবং পাকার মাথায় চারটি স্থানের প্রায় রাস্তার জুড়ে কার্পেটিং এবং খোয়া উঠে বড়বড় গর্তে পরিনত হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়েগেছে। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে রাবিশ ফেলে ছোট যানবাহন গুলো কোন রকম চলাচল করছে । কুয়েট দিবস উপলক্ষে গত দুই আগে বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষ নিজেদের খোয়া বালু এবং এলজিডি’র জনবল দিয়ে কোন রকম ফুলবাড়ীগ্টে থেকে কুয়েট মেইনগেট পর্যন্ত চলাচলের উপযোগি করেছে।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় শিক্ষক দিলিপ কুমার বিশ্বাস বলেন, শিক্ষাজোন খ্যাত খুলনার সব থেকে গুরুত্বপুণ সড়ক এটি। এই সড়কের দুরাবন্থার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দূভোগের শেষ নেই। শুধুমাত্র রাস্তার জন্য অনেক শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যায়। অনেক শিশু শিক্ষার্থীকে ভ্যান অথবা ইজিবাইক থেকে পড়ে যেতে দেখেছি।

ইজিবাইক চালক মো. বাবু জানান, সড়কের বিভিন্ন স্থানে শতশত গর্ত হওয়ায় গাড়ী চালাতে সমস্য হচ্ছে। খানাখন্দের মধ্যে দিয়ে গাড়ী চালাতে গিয়ে প্রতিদিন ৫/৭টি  ইজিবাইক নষ্ট হচ্ছে।

ভ্যান চালক বাবুল শিকদার জানান, দুই দিন আগে তার ভ্যানটির চাকা গর্তে পড়ে এক্রাসেল ভেঙ্গে যাওয়ায় তার রোজগার বন্ধ হয়েগেছে। অনেকে আবার রাস্তার এই অবস্থার জন্য গাড়ী চলানো বন্ধ করে দিয়ে দিনমজুরের কাজ করছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. আরিফ হোসেন বলেন, সড়কটির পুন.নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম দূনীতি এবং অব্যবস্থার মধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ আজ চরম ভাবে ছাপার হচ্ছে। গুরুত্বপুর্ণ সড়কটির কয়েকটি স্থান বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েগেছে। এলজিডি এবং সিটি কর্পোরেশনের কাদা ছোড়াছুটিতে রাস্তাটির কাজ হচ্ছে না এতে করে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গুরুত্বপুর্ণ এই সড়কটি দিয়ে খুূলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়(কুয়েট), নির্মাণাধীন হাইটেক পার্ক, শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গভ.ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, খানাবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খানজাহান আলী বিএম কলেজ, তেলিগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ খানাবাড়ী, তেলিগাতী, রংপুর অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের যাতাযাতের একমাত্র মাধ্যম যা বর্তমানে বাইপাস সড়কের লিং রোর্ড হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জনগুরুত্বপুর্ণ সড়কটি দ্রæত সময়ে সংষ্কারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠিন এগিয়ে আসবে এমনটি আশা করেছে স্থানিয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *