‘ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর মৃত্যু সোয়াইন ফ্লুতে নয়’

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর মৃত্যু সোয়াইন ফ্লুতে নয়, শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

গতকাল রোববার রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জনান। এসময় আইইডিসিআর’র প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. এস এম আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যমে সোয়াইন ফ্লুতে অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন নেসার মৃত্যু হয়েছে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে, যা সত্য নয়। তাছাড়া এ ধরনের তথ্য জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করতে পারে। তবে তার শরীরে ইনফ্লুয়েঞ্জার (ঐ১ঘ১) জীবাণু পাওয়া গেছে। যা মূলতো বাংলাদেশের ঋতুকালীন সাধারণ ফ্লু। এর সঙ্গে সোয়াইন ফ্লু’র কোনো সম্পর্ক নেই।

অধ্যাপক আজাদ বলেন, ২০০৯ সালে সারা পৃথিবীতে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি হিসেবে দেখা দেয়। তখনকার ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসকে কেউ কেউ সোয়াইন ফ্লু নামে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে ২০১০ সালে মহামারি শেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসকে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা নামে অভিহিত করতে নির্দেশনা জারি করে। এরপর ২০১১ সাল থেকে এই ভাইরাসটি মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা নামে পরিচিত।

সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিস্থতি নিয়ে আইইডিসিআর ও ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সেন্টার-এনআইসিএ বছরব্যাপী গবেষণা পরিচালনা করে। বাংলাদেশের মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এভিয়ানসহ অন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নজরদারিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা শুরু হয় এপ্রিল মাসে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।

‘মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা সাধারণত ৪/৫ দিন পরে এমনি ভালো হয়ে যায়। কিন্তু উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কখনো কখনো মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুসের রোগ, কিডনি রোগ, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক লোকজন, দুই বছরের নিচে শিশুদের সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।’

তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে (আমেরিকা, ইউরোপে) মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। যা আমেরিকাতে ৪০ শতাংশ এবং ইউরোপে ১৫ শতাংশ। এই মৌসুমে প্রবাস থেকে অনেকে দেশে আসেন। যাদের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, এই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম, কিন্তু সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনসাধারণ এ রকম সম্ভাবনা দেখা দিলে জরুরিভিত্তিতে আইইডিসিআর-এ যোগাযোগ করতে হবে। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিষ্কার রুমাল-গামছা-কাপড় বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিতে হবে। রুমাল-গামছা-কাপড় বা টিস্যু পেপার না থাকলে জামার হাতা/শাড়ির আঁচল দিয়ে নাক-মুখ ঢাকতে হবে এবং ঘরে ফিরে ওই জামা-শাড়ি সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। যেখানে-সেখানে কফ্-থুতু ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যবহৃত টিস্যু পেপার যেখানে সেখানে না ফেলে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।

‘জ্বর-সর্দি-কাশি হলে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি (পাঁচ বছরের নিচের শিশু, গর্ভবতী নারী, ৬৫ বছরের অধিক বয়স্ক ব্যক্তি ও আগে থেকেই হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট অথবা অন্য দীর্ঘমেয়াদী রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্নায়ুর রোগ, ক্যানসার ইত্যাদিতে ভুগছেন) যদি ফ্লু আক্রান্ত হন তাহলে জরুরিভিত্তিতে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.