প্রিয়াম ফিস’র এমডিকে পুলিশী হয়রানি বন্ধ করা না হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে

সংবাদ সম্মেলনে বিএফএফএএ’র হুশিয়ারি

দ. প্রতিবেদক
খুলনায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী মাছ কোম্পানী প্রিয়াম ফিস লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পুলিশ কর্তৃক হয়রাণী করা বন্ধ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। খুলনায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী মাছ কোম্পানী প্রিয়াম ফিস লিঃ রক্ষা ও খুলনা সদর থানার এসআই মোঃ আবু সাইদ (নিঃ) কর্তৃক হয়রানীর প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই হুশিয়ারী দেন বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টাস এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।
সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা পাঠ করেন প্রিয়াম ফিসের পরিচালক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টাস এ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোঃ হুমায়ূন কবীর, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আখতার হোসেন খান প্রমুখ।
সম্মেলনে মুকুল বলেন, প্রিয়াম ফিস এক্সপোর্ট লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আব্দুল কাদের পিতা আলহাজ্ব শেখ শফিউদ্দিন ঠিকানা- রূপসা ষ্ট্যান্ড রোড,খুলনা। তিনি এই করোনাকালিন সময়েও বিদেশে বিভিন্ন প্রকারের চিংড়ি মাছ রপ্তানী করে ২০২০ সালে ৬৮ কোটি টাকা এবং চলতি বছর এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৩৫ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই করোনাকালিন সময়ে কোম্পানীটি পৃথক চারটি এলসির মাধ্যমে ফ্রান্সে চিংড়ি মাছ রপ্তানী করে। আর এই চিংড়ি মাছ প্রিয়াম ফিস এক্সপোর্ট লিঃ কে সরবরাহ করে খুলনার মেসার্স নিয়তি সী ফিস নামক একটি প্রতিষ্ঠান।
নিয়তি ফিসের সরবরাহ করা চিংড়ি মাছ রপ্তানী করা হয় ফ্রান্সে। ফ্রান্সের আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানটি চিংড়ি মাছ নিম্নমানের বলে প্রিয়াম ফিস এক্সপোর্ট লিঃ এর নিকট ক্ষতিপুরন দাবী করে। সেই মোতাবেক খুলনার মেসার্স নিয়তি সী ফিস এর মালিক মোকাদ্দেস হোসাইনকে বিগত ২০/৩/২০২০, ১১/৮/২০২০ এবং ২৮/৫/২০২০ তারিখ লিখিত পত্র দিয়ে ক্ষতিপুরন দাবী করা হয়। কিন্তু নিয়তি ফিসের মালিক কোন ক্ষতিপুরন না দিয়া খুলনার পুলিশ সুপার বরাবর মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দাখিল করেন এবং আমাদেরকে হয়রানির চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশী তদন্তে আমাদের কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কোন দোষ না পাওয়ায় তিনি নির্দোষ প্রমানিত হন। তারপরেও নানাবিধ হয়রানীর কারনে আমাদের কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আবদুল কাদের খুলনার বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ৩য় জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা করেন যার নং দেওয়ানী ৮৮/২০।
এই মামলা দায়েরের পর মোকাদ্দেস হোসাইন ক্ষিপ্ত হয়ে তার আত্মীয় পরিচয়দানকারী খুলনা সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ আবু সাঈদ (নিঃ) (বি,পি নং ৮০০০৯৭৬৮০) কে দিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানী করছেন। এস আই মোঃ আবু সাঈদ রাতে-দিনে, পোষাকে-সাদা পোষাকে আমাদের প্রিয়াম ফিস এক্সপোর্ট লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বাসায় এবং রূপসা নদীর ওপার কোম্পানীতে যেয়ে বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে আসছেন। শুধু তাই নয়, মোকাদ্দেস হোসাইনের কথিত আত্মীয় খুলনা থানার এস আই আবু সাঈদ গত ২৪/৩/২১ ইং তারিখে আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে খুলনা থানায় মোঃ মোকাদ্দেস হোসাইনকে বাদী করে একটি মামলা দায়ের করান যার নং ৪০/২১। এই মামলা দাখিলের আগেই এস আই মোঃ আবু সাঈদ আমাদের কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বাসার সামনে থেকে সাদাপোষাকে বিনা ওয়ারেন্টে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে টেনে হিচড়ে থানায় নিয়ে যান এবং উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব তিনিই নেন।
সম্মেলনে প্রশ্ন রেখে বলা হয়, কি করে বিনা ওয়ারেন্টে সাদাপোষাকে একজন দারোগা একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে এভাবে অপদস্ত করতে পারেন? উল্লেখ্য, আমাদের কোম্পানীতে একটি নতুন ভবনে আই কিউএফ মেশিন স্থাপন অনুষ্ঠান ছিল সেইদিন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টাস এ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোঃ হুমায়ূন কবীর বলেন, বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এভাবে অপদস্ত করা কোনভাবেই কাম্য নয়। এর সঠিক বিচার না হলে আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন/ জে এফ জয়

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *