প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে ‘সাহস পাচ্ছেন’ তারা

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
চকবাজারের আগুনে দগ্ধ রিকশা চালক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী হাজেরা বেগম বুঝতে পারছিলেন না, চার সন্তানকে নিয়ে কীভাবে তার সংসার চলবে। খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশে এসে দাঁড়ানোয় তিনি এখন ফিরে পেয়েছেন বেঁচে থাকার সাহস। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দেখতে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সান্ত্বনা দেন, সেই সঙ্গে দেন পাশে থাকার আশ্বাস।
বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আগুনে আহতদের চিকিৎসার সব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। দগ্ধ প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়েছেন প্রাথমিকভাবে।
গত বুধবার রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে নয়জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে, তাদের অবস্থাও ভালো নয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বার্ন ইউনিটে আহতদের দেখার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বার্ন ইউনিটের দোতলার বারান্দায় কথা হয় হাজেরা বেগমের সঙ্গে।
তিনি জানান, তার স্বামী আনোয়ার হোসেন রিকশা চালাতেন। তার রোজগারেই চার সন্তানকে নিয়ে কোনোক্রমে টিকে ছিলেন তারা। কিন্তু বুধবার রাতে চুড়িহাট্টার আগুনে আনোয়ার মারাত্মকভাবে দগ্ধ হলে সব কিছু অনিশ্চিত হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৫৫ বছর বয়সী আনোয়ারের শরীরের ২৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে। হাজেরা বলেন, এই তিন দিন আমরা হাসপাতালে আছি। খুব টেনশনের মধ্য দিয়া দিন পার করতেছিলাম। কীভাবে আমার সংসার চলবে।
এখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সহায়তার আশ্বাস পেয়ে ভরসা পাচ্ছেন বলে জানালেন মধ্যবয়সী এই নারী। কল্পনাও করি নাই আমাদের মত গরীব মানুষ আগুনে পুড়লে প্রধানমন্ত্রী দেখতে আসবে। উনি আমাদের কাছে আসছেন; শরীরে, মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিছেন, সাহস দিছেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন বলছেন।
আমরা সাহস পাইছি। আমার স্বামীর ভালো চিকিৎসা হইবো। আমরা চাই সে সুস্থ হয়ে যাক। সেদিনের আগুনে আয়নার দোকানের কর্মচারী সেলিম মিয়ার (৪০) শরীরের ১৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।
তার অন্তঃসত্ত¡া স্ত্রী আঁখি বেগম বলেন, আমাদের চার বছরের একটা মেয়ে আছে। পরের মাসেই পরের সন্তান হবে। এর মধ্যে এমন দুর্ঘটনা। খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। অসহায় লাগছিল। কিন্তু আজকে প্রধানমন্ত্রী আসছেন। কাছে আইসা বললেন, তোমরা কোন চিন্তা কইরো না। আমরা তোমাদের পাশে আছি। চিকিৎসার জন্য কোনো চিন্তা কইরো না। সব ব্যবস্থা আমরা করব। অসহায় অবস্থার মধ্যেও মনে এখন সাহস পাচ্ছি।
বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল জানান, চকবাজারের ঘটনায় দগ্ধ নয়জন এখন হাসপাতালে আছেন, সবাই আইসিইউতে। তাদের পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চার জনের অবস্থা মোটামোটি। তাদের সুস্থ করতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা করব। এটা প্রধানমন্ত্রীরও নির্দেশ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.