পূর্ণমন্ত্রী থেকে বঞ্চিত খুলনা বিভাগ

* প্রতিমন্ত্রী হলেন মন্নুজান,স্বপন ও ফরহাদ, উপমন্ত্রী হাবিবুন

জয়নাল ফরাজী
আজ সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় শপথ গ্রহণ করবেন মন্ত্রিপরিষদের নতুন সদস্যরা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর টানা তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রবিবার বিকালে নতুন পরিষদের সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। শপথ নেওয়ার আগেই নতুন মন্ত্রীদের দপ্তরও বণ্টন করা হয়েছে। এবারের মন্ত্রিপরিষদে খুলনা বিভাগ থেকে তিনজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন উপমন্ত্রী থাকলেও নেই কোন পূর্ণমন্ত্রী। গতবারের মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দও নেই নতুন মন্ত্রিপরিষদে।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে এবারের মন্ত্রিপরিষদে ডাক পেয়েছেন চারজন। এদের মধ্যে খুলনা, যশোর, মেহেরপুর থেকে একজন করে প্রতিমন্ত্রী, বাগেরহাট থেকে একজনকে উপমন্ত্রী করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য ও মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন।
খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। তিনি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার পেয়েছেন বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব। তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এর সহধর্মিনী। ২০০৯ সালে সিটি নির্বাচনে ও ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে আসন ছেড়ে দেন তালুকদার আব্দুল খালেক। মেয়র খালেক তার আসন ছেড়ে দিলে ওই আসনে উপ-নির্বাচনে হাবিবুন নাহার দুই বারই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। পেশার শিক্ষক ফরহাদ হোসেন রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত আছেন। তিনি ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছহিউদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে তিনি।
এই চার সংসদ সদস্যের মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাওয়া আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬ আসনেই জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে এই এলাকা থেকে একাধিক পূর্ণমন্ত্রী দাবি করেছিলেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু পূর্ণমন্ত্রী না দিয়ে বরং যে মন্ত্রী ছিল সেটি থেকেও বঞ্চিত হয়েছে এ অঞ্চল। নেতাকর্মীরা আশা করছেন, অচিরেই হয়ত খুলনাঞ্চল থেকে পূর্ণমন্ত্রী দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.