পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের দ্বারা নিরীহ কেউ যেন নির্যাতিত না হয়

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্ববান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ সদস্যদের দ্বারা নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানি, নির্যাতনের শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন। গতকাল সোমবার পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একান্তভাবে প্রয়োজন এবং জরুরি। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা আপনাদের দায়িত্ব। নিজের দেশ নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করেই এ দেশকে আরও উন্নত করতে কাজ করবেন।

একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, আপনাদের হাতে কোনো নিরীহ জনগণ, কেউ যেন নির্যতনের শিকার না হয় বা কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয়। বরং কোনো হয়রানি হলে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা- এটাই আপনাদের কর্তব্য, এটাই জনগণ আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে।

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, যে কোনো একজন সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম নাই, বর্ণ নাই, দেশও নাই, কিছুই নাই। কাজেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা আবারও ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটা অনুরোধ করব, মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সাথে সাথে নিরাপদ সড়ক নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

যারা পথচারী তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব আছে। তারা যখন-তখন ছুটে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এই জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য স্কুল পর্যায় থেকে ট্রাফিক রুল সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে সাথে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে আমরা যে যথাযথ ভূমিকা নিয়েছি, সেটা পালন করা প্রয়োজন।

পুলিশ বাহিনীর কাজের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে সন্ত্রাস দমনে, জঙ্গিবাদ দমনে, মাদক দমনে এবং অগ্নিসন্ত্রাস দমনে (পুলিশ বাহিনী) যে ভূমিকা রেখেছে, তার জন্য আজকে শুধু দেশে না, বিশ্বে তারা প্রশংসা পাচ্ছে।

বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশবাহিনী কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের পুলিশ আজ বিশ্বে রোল মডেল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষ সৃষ্ট দুর্যোগও হয়। ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ বিএনপি-জামায়াত জোট অগ্নিসন্ত্রাসে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। সেই দুর্যোগের সময় পুলিশবাহিনী বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়েছিল এবং সে অবস্থা মোকাবেলা করেছিল। পুলিশ সদস্যগণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অগ্নিসন্ত্রাসীদের হাতে জীবন দিয়েছিলেন। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

স¤প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশবাহিনী ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিগত দশ বছরে পুলিশ বাহিনীতে ৯১ হাজার জনবল নিয়োগ, পদোন্নতি জটিলতা দূর করা ছাড়াও পুলিশের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পুলিশের মহা-পরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংগঠনের নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *