পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন খুলনায় ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পে দুর্নীতি!

 

দ: প্রতিবেদক

আশ্রায়ণ প্রকল্পের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিলের অর্থায়নে দরিদ্র পরিবারের ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার যোগিপোল ইউনিয়নে চলছে হরিলুট। বিনামূল্যে ঘর করে দেয়ার কথা থাকলেও যোগিপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমান প্রতিটি দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে ঘর প্রতি দশ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গতকাল শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইউনিয়নবাসী। ৬নং যোগিপোল ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ জয়নাল আবেদীন।

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, আশ্রায়ন প্রকল্পের অধীনে যার ‘জমি আছে ঘর নাই’ তার নিজের জমিতে বিনা মূল্যে গৃহ নির্মাণ করে দিবে সরকার। সে অনুযায়ী চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমান প্রকল্পের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রায় ৫’শ পরিবারের কাছ থেকে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে। এই তালিকার মধ্যে থেকে ১২০ জনকে চেয়াম্যান প্রকল্পের আওতায় ঘর তৈরী করেন দেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও জানায়, ৩৮০ জন ঘর না পেয়ে চেয়াম্যান আনিছুর রহমানের কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে সরকারী কোষাগারে টাকা জমা দেয়া হয়েছে বলে চেয়ারম্যান জানান। এতে ইউনিয়নবাসী হতাশ হয়ে পড়ে। সংবাদ সম্মেলনে বলেন বিনামূল্যে ঘর পাওয়ার আশায় হত দরিদ্র মানুষ কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে, আবার কেউ কেউ গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী বিক্রি করে চেয়াম্যান শেখ আনিছুর রহমানের কাছে টাকা দিয়েছেন। এখন চেয়ারম্যান টাকাও ফেরত দিচ্ছে না, ঘরও দিচ্ছেনা। এ পরিস্থিতিতে সীমাহীন সমস্যার মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটছে ঘর পাওয়া আশায় অর্থ দেয়া ইউনিয়নবাসী।

এ সময় যোগিপোল এলাকাবাসীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুমা খন্দকার মুন্নু, শেখ মোঃ রেজাউল, মোঃ সবুজ হোসেন, বাপ্পী মুন্সী, মনিরা বেগম, আম্বিয়া বেগম, মোঃ রুবেল, তৌহিদুল ইসলাম ও মোঃ জসিম শেখ।

অপরদিকে শনিবার বেলা ১২টায় যোগিপোল ইউনিয়নের ফুলবাড়ীগেটস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমান। এসময় তিনি ‘‘জমি আছে ঘর নাই’’ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক অবহিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪০৩টি ঘর প্রদানের কথা থাকলে। আমরা মন্ত্রণালয়ে ৪০৩টি ঘরের অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র পাঠানো হয়। পর্যায়ক্রমে প্রথম পর্যায়ে ১৭১টি ঘরের অনুমোদন পাওয়া যায় এ সকল ঘর নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পথে রয়েছে।

তিনি বলেন, যোগিপোল ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম আওয়ামীলীগের কোন চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করায় বিএনপি-জামায়াতের সাথে মিলে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে এক শ্রেনীর সুবিধাবাদী ব্যক্তি যোগিপোল ইউনিয়নের ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মনগড়া মিথাচার করছে। এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাস র্নিমূলে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স হওয়ায় এ সকল ব্যাক্তিরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচর সহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা কাজী আবুল কালাম আজাদ, মেম্বর মোঃ আরিফ হোসেন, মেম্বর মোঃ রফিক, মেম্বর নুরু ইসলাম, মেম্বর আমিরুল ইসলাম, মেম্বর হাফিজা বেগম, মাহফুজা বেগম, ফিরোজা বেগম, খানজাহান আলী থানা আ’লীগ জলিল হাওলাদার, শেখ কামাল হোসেন, সাইয়েদুর রহমান, কাজী জাকারিয়া রিপন প্রমুখ।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.