পার্লামেন্টের বাইরেও বিরোধী দল হয় : খালেদা জিয়া

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক
কারাবন্দি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নিজেদের বিরোধী দল দাবি করে বলেছেন, বিরোধী দল শুধু সংসদেই হয় না, সংসদের বাইরেও বিরোধী দল হয়। পাঁচ বছর আগে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে চলে আসা বিএনপি এবার ভোটে অংশ নিলেও জোটসঙ্গীদের মিলিয়ে মাত্র আটটি আসন পেয়েছে তারা। বিএনপির অনুপস্থিতিতে দশম সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টি এবারও একই ভূমিকায় থাকছে।
এই প্রেক্ষাপটে রবিবার পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বসা ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি চলাকালে এক আইনজীবীর বক্তব্যের জবাবে একথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত বছর ফেব্র“য়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়া বলেছেন, যারা জনগণের অধিকারের কথা বলে তারাই আসলে বিরোধী দল।
এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি উপলক্ষে বেলা ১২টা ২০ মিনিটে হুইল চেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে আদালত কক্ষে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিজের পক্ষে শুনানি করছিলেন।
তিনি বলেন, আজ আমরা বিরোধী দলে আছি বলেই বিপদে পড়েছি। তার ওই কথার পরেই পাশ থেকে আসামিপক্ষের আইনজীবী বোরহানউদ্দিন বলেন, আপনারা কি বিরোধী দলে আছেন?
তখন তার প্রশ্নের জবাব দেন খালেদা জিয়া: বিরোধী দল শুধু পার্লামেন্টের ভেতরেই হয় না, পার্লামেন্টের বাইরেও বিরোধী দল হয়। যারা রাজপথে থাকে, জনগণের কথা বলে, মানুষের অধিকারের কথা বলে তারাই বিরোধী দল।
এদিন মওদুদের নিজের পক্ষেই অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়নি। বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান আগামী ২১ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন বলে খালেদার অন্যতম আইনজীবী নূরুজ্জামান তপন জানিয়েছেন। মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বেলা ১২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বক্তব্য তুলে ধরেন মওদুদ আহমদ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সন থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল তখই এ চুক্তি হয়। আমরা শুধু ধারাবাহিকতা রেখেছি। বলা হচ্ছে, আমি লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ছিলাম, মতামত দিয়েছি চুক্তির পক্ষে। অথচ এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আমরা পাইনি। সত্যায়িত অথবা ফটোকপি কোনোটাই না।
মামলার নথির সত্যায়িত কপি পেতে রবিবারই আবেদন করবেন জানিয়ে সময় চান ব্যারিস্টার মওদুদ। পরে বিচারক শুনানি মুলতুবি করে পরবর্তী দিন রাখেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক।
খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
২০১৭ সালে এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর পর খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমদ ছাড়া বাকি সবার অব্যাহতির আবেদনের শুনানি আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে না পারায় এবং মওদুদের সময়ের আবেদনে এ শুনানি প্রায় এক বছর আটকে ছিল।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.