পারমিট ছাড়াই সুন্দরবনে পারসে পোনা আহরণ, রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার

কয়রা প্রতিনিধি

কোন প্রকার পাস-পারমিট ছাড়াই খুলনা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনের গহীন বনের নদী-খালে অবাধে পারসে মাছের পোনা আহরন চলছে। আর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অতচ বন বিভাগ নিরব। এটি লাভ জনক হওয়ায় ফড়িয়ারা মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পারসে মাছের পোনা ধরার কাজে লিপ্ত রয়েছে। বন বিভাগ বিষয়টি জেনেও রহস্যজনক কারনে অবৈধ ভাবে পোনা আহরনকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না।

স্থানীয় একাধিক সুত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমানে সুন্দরবনে কোন ধরনের পোনা আহরনের পারমিট নেই। কিন্তু এক শ্রেনীর অসাধু সিন্ডিকেট বিভিন্ন ফরেস্ট স্টেশন ও বন টহল ফাঁড়িতে কর্মরত বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে দেদারসে পারসে পোনা আহরন করছে। এতে বন বিভাগ বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে। আর বিলুপ্ত ঘটছে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছের।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে, পোনা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক, কাশিয়াবাদ, বানিয়াখালী ও কৈখালী ফরেস্ট ষ্টেশন থেকে সাদা মাছ পরিবহনের নামে ট্রলারের পারমিট নিয়ে পোনা ধরার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।  ডিসেম্বর মাস থেকে পোনা ধরা শুরু হয়েছে। যা মার্চ মাস নাগাদ চলবে। তবে পোনা নিধনযজ্ঞ চললেও বন বিভাগ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

সূত্র জানায়, বর্তমানে অর্ধশতাধিক ট্রলার সুন্দরবনের আলোরকোল, নীলকোমল, কালিরচর, দুবলারচর, নারিকেলবাড়িয়া, শাপখালি, বাটলু ও দোবেকীসহ বনের গভীরে পারসে মাছের পোনা ধরছে। ওই পোনা লোকালয়ে উচ্ছ মুল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। আর বনের ভিতর পোনা পরিবহনের ট্রলারগুলো অবাধে চলাচলের সুযোগ দিয়ে অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে পোনা আহরনের সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজন জেলে জানান,পারসে মাছের পোনা ধরার সুযোগের বিনিময়ে বন বিভাগের প্রতি গোনে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়।

এছাড়া বুড়িগোয়ালীনি, কোবাদক, কাশিয়াবাদ ও বানিয়াখালী ফরেস্ট ষ্টেশনেও মাসোয়ারা দিয়ে ঝাপালি সেটে, নওয়াবেকী সেটে, আমাদি সেটে, গড়–ই খালী সেটে ও পাইকগাছা সেটে নির্বেঘেœ পোনা বিক্রির পথ সুগম করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ আবু সালেহ বলেন, সুন্দরবনে পারসে মাছের পোনা নিধনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ বশিরুল আল মামুন বলেন, যদি এ ধরনের কোন অপতৎপরতা লক্ষ করা যায় তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া অবৈধ কাজের সাথে বনবিভাগের কারো কোন সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.