পাইকগাছায় কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ

পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছা ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সেখ রুহুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ মোঃ রবিউল ইসলামকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে একদিকে এলাকার ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাব-মুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। অপরদিকে, অধ্যক্ষ লাঞ্চিত হওয়ায় অনেক ও শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা সদরের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী উচ্চ মাধ্যমিক নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ। লেখাপড়া থেকে শুরু করে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির যথেষ্ঠ সুনাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এই অর্জনের পিছনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ রবিউল ইসলাম। যিনি ইতোমধ্যে নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন সফল অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এদিকে গত বুধবার শিক্ষকদের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভাব-মুর্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম সহ ২/৩ জন শিক্ষক কলেজের নিজ কার্যালয়ে অফিসিয়াল কাজ করছিল। এ সময় সহকারী অধ্যক্ষ সেখ রুহুল কুদ্দস সহ ৯/১০ শিক্ষক অধ্যক্ষের অফিস রুমে প্রবেশ করেন। এ সময় অধ্যক্ষ সবাইকে বসতে বলে চা আপ্যয়নের ব্যবস্থা করেন। এ সময় কলেজ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে সহকারী অধ্যাপক সুধাংশু মন্ডল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষের দিকে আঙ্গুল উচিয়ে চিৎকার করে কথা বলতে থাকেন। এ সময় অধ্যক্ষ তাকে ভদ্রতার সাথে কথা বলতে বললে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী অধ্যাপক সেখ রুহুল কুদ্দুস অধ্যক্ষের উপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ মারপিট করতে উদ্যত হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক অনেকেই তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম জানান, অধ্যাপক সেখ রুহুল কুদ্দস পেশায় একজন শিক্ষক হয়ে আমার সাথে জঘন্য আচরণ করেছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কেউ কখনও আশা করে না। এ ঘটনায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভাব-মুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি আইনশৃংখলা সভায় উত্থাপনসহ তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। যার নং- ৭২১, তাং- ১৭/০১/১৯। সহকারী অধ্যাপক সেখ রুহুল কুদ্দুস এ ধরণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অধ্যক্ষ বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছে আমাদের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন। এই বিষয়টি আমরা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাদের উপর উত্তেজিত হন। তাকে লাঞ্চিত করার বিষয়টি আদৌও সঠিক নয়।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.