নড়াইলে দশ দিনব্যাপী সুলতান মেলা আজ শুরু

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠের সুলতান মঞ্চ চত্বরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হচ্ছে দশ দিনব্যাপী ‘সুলতান মেলা’। এবারের মেলাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন বিকেলে মেলার উদ্বোধন করবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ^াস, পুলিশ সুপার মো: জসিম উদ্দিন পিপিএম, সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: রবিউল ইসলাম,নড়াইল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, পৌর মেয়র মো: জাহাঙ্গীর বিশ^াস অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে মেলা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক ও সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি আনজুমান আরা। মেলাকে ঘিরে গোটা শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশন যৌথভাবে মেলার আয়োজন করেছে।

সুলতান ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, এবারের মেলায় থাকছে এসএম সুলতান ও বরেণ্য চিত্রশিল্পীদের আঁকা চিত্র প্রদর্শনী,চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব- হাডুডু,কুস্তি, ঘোড়ার গাড়ীর দৌড়,ষাঁড়ের লড়াই, দড়ি টানাটানি, ভলিবল খেলা, মহিলাদের ভলিবল প্রতিযোগিতা, দড়ি টানাটানি, কাবাডি, শরীর গঠন প্রতিযোগিতা, লাঠিখেলা, কলাগাছে ওঠা,বাঁশের লাঠির দৌড়, জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃতি, নাটক, জারিগান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,সুলতান স্বর্ণপদক প্রদান ও সুলতানের জীবন ও দর্শন নিয়ে প্রত্যহ সেমিনার।

নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইয়ারুল ইসলাম জানান, মেলাকে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যাবতীয় কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

এদিকে, দশ দিনব্যাপী সুলতান মেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনগুলো জেগে উঠেছে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এখন রিহার্সেল নিয়ে দারুন ব্যস্ত। মেলায় গ্রামীণ কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রায় ১০০টি ষ্টল বসেছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগষ্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক পান।১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট অব আর্টিষ্ট হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মননা পান। ১৯৪৬ সালে ভারতের সিমলায় তাঁর একক চিত্র প্রদর্শনী,লাহোরে ১৯৪৮ সালে, করাচীতে ১৯৪৯ সালে, লন্ডনে ১৯৫০ সালে,বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ১৯৭৬ সালে এবং ঢাকাস্থ জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ১৯৮৭ সালে তাঁর চিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া দেশ-বিদেশে বহুবার তাঁর ছবি প্রদর্শিত হয় যা সবার নজর কাড়ে। ১৯৯৪ সালে ১০ অক্টোবর মহান এ শিল্পী দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভোগার পর যশোর সম্মিলিত হাসপাতালে শেষ-নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। সুলতানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তাঁর নিজ বাড়িতে নির্মিত হয়েছে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.