নুসরাত হত্যা: কাউন্সিলর মাকসুদ আলম রিমান্ডে

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যামালায় গ্রেপ্তার পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহমেদ সোমবার এই আদেশ দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মাকসুদকে ঢাকার ফকিরাপুল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। সোমবার দুপুরে ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

মাকসুদ আলম সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। নুসরাতের মৃত্যুর দুদিন পর গত ১২ এপ্রিল তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা আওয়ামী লীগ।  এদিকে দুপুরে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আইনজীবীরা। নু

পরে বিকেলে শহরের ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন শহীদ মিনারে একই দাবিতে মানববন্ধন হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের ফেনী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সেখানে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, সিপিবির সভাপতি ফয়জুল হক মিলকি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ফেনীর সাধারণ সম্পাদক সমর দেবনাথ, সাংস্কৃতিক সংগঠন পায়রা-এর সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলুসহ অনেকে।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার ফেনীর সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে সকালে ‘সচেতন ছাত্র সমাজ’, ‘মাল্টিসফট আইটি’, ‘গ্রান্ড হক টাওয়ার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠন’-এর নেতাকর্মীরা নুসরাতের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেন।

এদিকে নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে সোনাগাজী বাজারের জিরো পয়েন্টে একাধিক সংগঠন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। প্রতিটি মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে রোববার রাতে নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার এজহারভুক্ত দুই ও তিন নম্বর আসামি নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

রোববার মধ্যরাতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬৪ ধারায় দুজন জবানবন্দি দেন। দুপুর ৩টায় আদালতে হাজির করা হয় এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই সন্দেহভাজনকে। এরপর দুজনের জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়ে টানা দশ ঘণ্টা (রাত ১টা) পর্যন্ত চলে।

সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন নুসরাত। গত ২৬ মার্চ নুসরাতের মা শিরীনা আক্তার মামলা করার পরদিন সিরাজকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

ওই মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার হল থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয় বোরখা পরা চারজন। আগুনে শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নুসরাত ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ জনের নাম উলে­খ করে অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচ জনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই নোমান মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.