নওয়াপাড়ায় নকল ঔষধ কারখানার সন্ধান প্রায় কোটি টাকার মালামাল জব্দ

 

 

মল্লিক খলিলুর রহমান, অভয়নগর

যশোরের শিল্প ও বাণিজ্য শহর নওয়াপাড়া গুয়াখোলায় লাইফকেয়ার সেকনো ২০ (গ্যাসট্রিক আলসার প্রতিরোধক) নামের অবৈধ ওষুধ তৈরি কারখানায় র‌্যাবের অভিযান। বিপুল পরিমান তৈরি ওষুধ, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল ও দুইটি আধুনিক মেশিন জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকা। আটক করা হয়েছে আল-আমিন নামের একজন ভ্যান চালককে। কারখানার মালিক আতাউর রহমান প্রিন্স পলাতক রয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভয়নগর উপজেলা পরিষদ ও আকিজ জুট মিলের মাঝামাঝি গুয়াখোলা গ্রামে খানজাহান আলী সড়কের ৪৬৪নং বাড়িতে লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যাল্স (ফুড অ্যান্ড ফিড ডিভিশন) নামের এ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গতকাল শুক্রবার দুপুরেও র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব-৬ এর কম্পানি কমান্ডার এডিশনাল এসপি মোহাম্মাদ সুরাত আলম সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে গুয়াখোলা গ্রামে লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যাল্স (ফুড অ্যান্ড ফিড ডিভিশন) নামের ওষুধ তৈরি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এসময় মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি কারখানায় ওষুধ তৈরির কোন বৈধ কাগজপত্র। একটি মোটরচালিত ভ্যানে করে প্যাকেটজাত সেকনো ২০ নামের ওষুধ নেওয়ার সময় ভ্যান চালক একই গ্রামের মৃত ইয়াছিন মোল্যার ছেলে আল-আমিন (২৭) কে আটক করা হয়। পরে দুইতলা ভবনের নিচ তলায় প্রায় সাড়ে ৫শ’ পিস সেকনো নামের গ্যাসের প্যাকেটকৃত ওষুধ, বিপুল পরিমান ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্যাকেটিং করার জন্য দুইটি আধুনিক মেশিন, ১০টি সাদা কাপড়ের পোষাকসহ কাগজপত্র ও বিভিন্ন মালামালের সন্ধান পাওয়া যায়। যা পরবর্তীতে জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানসহ মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জব্দকৃত মালামালের সিজার লিস্ট করার প্রক্রিয়া চলছে।

আটক ভ্যান চালক আল-আমিন জানায়, আতাউর রহমান প্রিন্স নামের একজন তাকে দুই কার্টুন ওষুধ নওয়াপাড়া বাজারে একটি কুরিয়ার অফিসে দিয়ে আসতে বলে চলে যায়। এর বেশিকিছু জানেনা সে। পরে র‌্যাব তাকে আটক করে।

লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যাল কারখানার আশপাশের বাড়ি মালিকরা জানায়, চকলেট তৈরি কারখানা হিসেবে পরিচিত ওই ভবন। যে কারণে তারা সেদিকে খেয়াল রাখত না। তাছাড়া কারখানার মূল গেট সব সময় বন্ধ থাকতো। প্রতিদিন সকাল ৮ টায় ১০/১৫ জন মহিলা ভিতরে প্রবেশ করত এবং রাত ৮ টায় বেরিয়ে যেত। আবাসিক এলাকায় ভেজাল ওষুধ তৈরির ব্যাপার জানতে পেরে তাঁরা হতবাক হয়ে পড়ে এবং এ ধরণের অপারিধের বিচারও দাবী করে তাঁরা।

এ ব্যাপারে লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যালের সাইনবোর্ডে ঢাকা অফিসের ০১৭১৫-১৫৬১১৮ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় প্রতিনিধি আতাউর রহমানের সাথে কথা বলতে বলে ফোনটি কেটে দেন।

স্থানীয় প্রতিনিধি আতাউর রহমান প্রিন্সের ব্যবর্হত ০১৭১২-০২৭৫৩৭ নাম্বারে বার বার যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মালামাল জব্দসহ মামলার দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.