ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি সংসদে

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড, প্রয়োজনে ক্রসফায়ারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে অধিবেশনের কোনো একদিন আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করা হোক। ‘ধর্ষণের কারণে নারী সমাজ আতঙ্কিত ও চিন্তিত। গণমাধ্যমে খবর এসেছে ২০১৯ সাল যেন ধর্ষণের মহাসাগর। পুলিশের অপরাধ সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গেলো বছর ১৭ হাজার ৯৯৯টি নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে। তার মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫ হাজার ৪শ জন। ১৮৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের সময় ২৬ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে। ১৮৩১ জন নারীর মৃত্যু ধর্ষণের পরে। ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছে ১৪ জন শিশু। গেলো বছর সবচেয়ে বেশি নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।’

চুন্নু বলেন, এ বিষয়ে যদি আজ আমরা গুরুত্ব না দেই তাহলে জাতির সামনে আমরা কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারবো না। কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হলো। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি ব্যবস্থায় ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পরে জনগণ এখনো বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না। এ ঘটনার পরেই সাভারে একজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ধামরাইতেও একই ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ধর্ষণ হচ্ছে, ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে, এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী, এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনে সংসদের যে কোনো একটি দিন সময় নির্ধারণ করে সংসদ স্থগিত করে দুই ঘণ্টা আলোচনার জন্য সুযোগ দিতে পারেন।

‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামালে সারাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপ বেড়েছিল। সমানে দেখা যেতো কোনো ঘটনা ঘটলেই নারীরা অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার। তখন এরশাদের সরকার ওটাকে প্রতিরোধ করার জন্য অ্যাসিড নিক্ষেপ প্রমাণ হলে আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল। এখন সরকারের কাছে আবেদন জানাবো যে হারে ধর্ষণ বেড়েছে, তাতে যাবজ্জীবন কারাদ ণ্ড দিয়ে ধর্ষণ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। সময় এসেছে এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনার। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে ধর্ষণের দায়ে (যদি প্রমাণ হয়) তার সাজা যাবজ্জীন কারাদÐ না দিয়ে মৃত্যুদÐ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, এত ঘটনা ঘটছে, মাদকের জন্য এত ক্রসফায়ার হচ্ছে, সমানে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে কেন আজ পর্যন্ত একজন আসামি বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় না। সরকার এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা না নিলে কোনোক্রমেই এটা কঠোর হবে না। এসময় তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহŸান জানান ধর্ষণের খবরের মতো ধর্ষণের শাস্তির খবরও ফলাও করে প্রচার করার জন্য। যাতে ধর্ষকরা এ সর্ম্পকে জানতে পারে।

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.