দ্বাদশ সংসদের ১৫০ আসনে ইভিএমে নির্বাচনে ভাবনা

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

২০২৪ সালে অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ‘ফিফটি পারসেন্ট’ অর্থাৎ ১৫০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর সব স্থানীয় নির্বাচনেই এ যন্ত্রে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে কমিশন বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন পরিকল্পনার কথা জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘এখন থেকে সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে করা হবে। যেখানে উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদ যেখানে ভৌগলিক কিছু বিচ্ছিন্নতা আছে। কম্পেক্ট এরিয়া নয়। যেগুলোতে বিদ্যুৎ আছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো সেসব উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ বেছে বেছে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা শতভাগ না হলেও ফিফটি পারসেন্ট আসনে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা একটা প্রকল্প হাতে নিয়েছি, ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দেড় লাখ ইভিএম সংগ্রহ করেছি। এগুলোতো সংগ্রহ করে রাখার জন্য না। জাতীয় নির্বাচনের আগেই এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সরকার বলেছে যে, সব জায়গায় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনেও এটা ব্যবহার করা হোক। এতোগুলো ইভিএম কেনো আমরা ব্যবহার করবো না। প্রকল্প যখন আমরা নিয়েছি, এরইমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিএমটিএফ এই মেশিনগুলো আমাদেরকে সাপ্লাই করেছে। এবং এতোগুলো লোককে আমরা প্রশিক্ষিত করেছি, আমাদের প্রত্যেকটি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি।’

হেলালুদ্দীন আহমদ আরো বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি এখনো শিওর না। এটা আমাদের পরিকল্পনায় আছে। এজন্য অবশ্যই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার দরকার আছে।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো নির্বাচনে আমরা এটা ব্যবহার করবো। প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কয়েকটি বিষয় আসে, সেটি হলো দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়, বাংলাদেশে প্রচলিত যে অনিয়মগুলো হয়, সেটা আর হবে না, ভোটারদের আস্থাটা বাড়বে, ব্যালট পেপারের কাগজ সাশ্রয় হবে। কালকে থেকে ভারতে যে লোকসভা নির্বাচন হবে। একমাসব্যাপী এ নির্বাচন হবে। তারা সব নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে করবে।’

ট্যাবের ব্যবহার নিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে চারটি উপজেলায় ট্যাব ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে দুইটি উপজেলার ফলাফল আমরা দ্রুত পেয়েছি। দুইটি উপজেলায় সমস্যা হয়েছে। সে কারণে চতুর্থ ধাপের ছয়টি উপজেলায় এটি ব্যবহার করা হয়নি। ট্যাবের সফটওয়্যার আরো অপটিমাইজেশন করার প্রয়োজন আছে। এগুলো ঠিক করার জন্য যে কোম্পানির কাছ থেকে এটি কিনেছি, তাদেরকে অনুরোধ করেছি। তারা এটি ঠিক করে দেবে।’

‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনসহ যেসব জায়গায় ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সেসব জায়গায় ট্যাব ব্যবহার করা হবে। এখন থেকে যেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আমরা বিটিআরসিকে অনুরোধ করবো ওইসব এলাকায় যেনো ইন্টারনেটের গতিটা বাড়িয়ে দেওয়া হয় যোগ করেন সচিব।’

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *