দুদকের মামলায় ইশরাকের বিচার শুরুর আদেশ

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

বিএনপির ইশরাক হোসেন ভোটের মাঠে থাকার মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এক মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় নয় বছর আগের ওই মামলায় বুধবার ঢাকার জজ আদালতে ইশরাকের উপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়।

অভিযোগ গঠন করে ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ শেখ নাজমুল আলম আগামী ৯ ফেব্রæয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ঠিক করে দেন। অবিভক্ত ঢাকার সর্বশেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। আগামী ৩০ জানুয়ারি এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

দুদকের এক মামলায় দুই বছর আগে ইশরাকের বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার দুই বছর সাজা হয়েছিল। ওই রায়ের আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা খোকা কয়েক মাস আগে মারা যান। সম্পদের তথ্য-বিবরণী চেয়ে দুদক ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইশরাক ও তার বোন সারিকা সাদেককে আলাদা নোটিস দিয়েছিল।

নোটিসে তাদের নিজের নামে এবং তাদের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের ‘স্বনামে বা বেনামে’ বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো নামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ-সম্পত্তির দায়-দেনা, আয়ের উৎসসহ বিস্তারিত বিবরণ সাত কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছিল।

কিন্তু তারা তা না দেওয়ায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম ২০১০ সালের ২৯ ও ৩০ আগস্ট রমনা থানায় দুটি মামলা করেন। ইশরাক ও সারিকা দুদকের নোটিস চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করলেও বিফল হন।

২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর এই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ২০১৯ সালের ৫ মে অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। ওই দিন ইশরাক আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় ইশরাকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।

এরপর ২০১৯ সালের  ২৫ নভেম্বর হাই কোর্টে আগাম জামিনের জন্য যান ইশরাক। তখন চার সপ্তাহের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী গত ৯ ডিসেম্বর ইশরাক আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করে আসা ইশরাকের আইনজীবী নুরুজ্জামান তপন দাবি করেছেন, তার মক্কেল দেশের বাইরে থাকায় দুদরে নোটিস পাননি।

তিনি বলেন, এজাহারে রমনা এলাকার মেয়র হাউজ এবং গোপীবাগের বাসার ঠিকানা থাকলেও দুই ঠিকানায় সম্পদের এই বিবরণ তলবের নোটিস পাঠানো হয়নি।

ইশরাক তখন দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে এলে থাকতেন গোপীবাগের বাসায়। গোপীবাগের বাসায় কোনো নোটিস পাঠানো হয়নি। রমনা এলাকার মেয়র হাউজে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে নোটিস টানিয়ে দেওয়া হয়। নোটিস টানানোর সময় কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী ছিলেন না। আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ইশরাক বিচারকের প্রশ্নে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.