তারেক এখনও সুস্থ নন : রিজভী

 

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনও সুস্থ নন বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাজ্য সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি সে দেশের একজন মন্ত্রী নিশ্চিত করার পর এই খবর দিলেন রিজভী।

গতকাল বুধবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তারেক রহমান আইনগতভাবে জামিনে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। এখনও তিনি সুস্থ নন। তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। সুস্থ হলেই তিনি দেশে ফিরবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলা ছাড়াও জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা এবং মুদ্রা পাচারের এক মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত। দেশে ফিরলে তাকে যাবজ্জীবন সাজা খাটতে হবে।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তার তারেক পরের বছর ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি নিয়ে লন্ডনে যান। তারপর থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি।

লন্ডনে অবস্থানের মধ্যেই বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের পদ থেকে জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন তারেক রহমান। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত বছর ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন তারেক। তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে তার সাজা কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বিভিন্ন সময়ে বলে আসছেন সরকারের মন্ত্রীরা।

গত রোববার ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে একটি আবেদন পেয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যের সাথে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায়, তারেক রহমানকে ফেরত পাঠাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এখানে প্রতিহিংসার কোনো বিষয় নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, তিনি (তারেক রহমান) যদি মনে করেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাহলে তো তার নিজে থেকে এখানে চলা আসা প্রয়োজন। তার সৎ সাহস থাকলে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করা উচিত। কিন্তু তার সেই সাহস নেই।

তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, আমি বলতে চাই, যারা রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মতো ভোট করে তারা কতটুকু সাহসী তা জনগণই জানে। আপনাদের সৎ সাহস থাকলে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। তারপর নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করুন। তখন বোঝা যাবে আপনাদের সৎ সাহস কতটুকু।

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.