তারেকের অর্থ পাচারের কথা আষাঢ়ে গল্প : রিজভী

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের ব্যাংক হিসাবে কোনো অবৈধ অর্থ নেই বলে দাবি করেছে বিএনপি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীর তিনটি ব্যাংক হিসাব বন্ধে আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের কোন অবৈধ অর্থ নেই। বিএনপিকে চাপে ফেলতে এই সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে দিয়ে একটি কাল্পনিক ও মিথ্যা আবেদনের মাধ্যমে আদালতকে নিয়ে এই আদেশ করিয়েছে। এটি একটি আষাঢ়ে গল্প।

অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির দুটি এবং ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় দণ্ডিত তারেক বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে যুক্তরাজ্যে নিয়ে তা বিনিয়োগ করছেন বলে দুদকের দাবি।

এজন্য তাদের এক আবেদনে গত বুধবার ঢাকার আদালত তারেক ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের যুক্তরাজ্যের ব্যাংকের তিনটি হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার বলেছেন, আদালতের ওই আদেশ বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

রিজভী বলেন, যুক্তরাজ্যে তার যা অর্থ আছে, তা ইনল্যান্ড রেভিন্যুতে ট্যাক্স পেইড অর্থ। ইনল্যান্ড রেভিন্যু হচ্ছে সেখানকার ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের মতো। সেখানে আইনের শাসন রয়েছে। সেখানে আনডিসক্লোজড মানি ট্র্যানজেকশন হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও তাদের আন্দোলনের ফসলরা ১২ বছর ধরে তন্ন-তন্ন করে খুঁজে তারেক রহমানের অবৈধ সম্পদের কোনো সন্ধান পায়নি। অথচ ঢালাওভাবে তার বিরুদ্ধেকত যে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে অপপ্রচার করেছে, তার ইয়ত্তা নেই। এখন দুদককে দিয়ে আরেকটি কুৎসা রটনার নতুন অধ্যায় শুরু করল। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইনে আইনসিদ্ধ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আদালতের হস্তক্ষেপের কোনো এখতিয়ার নেই।

বিচারের বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা বলেন, একটি ফিনান্সিয়াল মামলায় তারেক রহমানকে জড়িত করতে চাইলে একটি আদালত তাকে (তারেক রহমান) নির্দোষ রায় দেয়। সেই রায় শেখ হাসিনার নির্দেশিত রায়ের বিপক্ষে যাওয়ায় বিচারক মোতাহার হোসেনকে শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে হয়।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ষোড়শ সংশোধনীর রায় মনঃপুত না হওয়ায় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে তাকে অপমান-অপদস্থ করে অস্ত্রের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সরকারের হুকুমের বাইরে গিয়ে কোনো বিচারকের ন্যায়বিচার করার সাহস এবং সুযোগ নেই। তারেকসহ জিয়া পরিবার এবং বিএনপির বিরুদ্ধে সরকার তার সমর্থিত গণমাধ্যমের  মাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী।

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.