May 20, 2024
জাতীয়

তারেককে ফেরত চাওয়ার কারণ ব্রিটিশ দূতকে জানালেন আইনমন্ত্রী

 

 

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা দণ্ডিত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনার ব্যপারে ঢাকায় ব্রি‘টিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসনের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল বুধবার সকালে আইনমন্ত্রীর গুলশানের কার্যালয়ে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

স¤প্রতি দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে আসা ব্রি‘টিশ হাই কমিশনারের সঙ্গে এটিই প্রথম বৈঠক উলে­খ করে আনিসুল বলেন, আমি উনার কাছে তারেক রহমানের ইস্যুটা তুলে ধরেছি। আমি বলেছি যে, এরকম একজন ফিউজিটিভ, যে বাংলাদেশের আদালত দ্বারা দণ্ডিত, সে লন্ডনে আছে। আমরা তাকে ফেরত চাই।

জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন যাওয়ার পর আর ফেরেননি তারেক। তার অনুপস্থিতিতেই মুদ্রা পাচার ও দুর্নীতির দুটি মামলায় তাকে সাত ও দশ বছরের সাজার রায় দিয়েছে আদালত। এছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলাতে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ও হয়েছে।

এসব সাজা কার্যকর করতে তারেককে দেশে ফেরাতে ব্রিটেনের সঙ্গে বিভিন্ন সময় আলোচনা, চেষ্টা-তদবির চালানোর কথা বলে আসছে সরকার। বাংলাদেশ তারেক রহমানকে কেন ফেরত চাইছে, তার দুটো কারণ ব্রি‘টিশ হাই কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। ফেরত চাই কেন তার দুটো কারণ আমি বলেছি, একটি হচ্ছে যে- বাংলাদেশে দণ্ডিত এরকম অপরাধী যদি বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পায়, তাহলে আমাদের সাথে যুক্তরাজ্যের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, তাতে এরকম অনেক দণ্ডিত আসামি ভেগে ওইখানে গিয়ে অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) নেওয়ার একটা দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

দ্বিতীয়ত হচ্ছে, আমাদের আদালত ঠুঁটো জগন্নাথ নয়। আমাদের আদালত একটা অপরাধীকে শাস্তি দিয়েছে। এখন তার একমাত্র জায়গা হচ্ছে কারাগার। এই দুটো কারণে আমরা তারেক রহমানকে ফেরত চাই।

আনিসুল হক বলেন, হাই কমিশনার বলেছেন তিনি তার সরকারের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলবেন। সেটা এই সমস্যার ব্যপারে একটা ইতিবাচক উত্তর বলে আমি মনে করি এবং আমার এটাও মনে হয়, এটা নিয়ে আলাপ করলে সমস্যার সমাধান আমরা করতে পারব।

এক প্রশ্নে তারেক রহমানের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক ক্ষুন্ন হোক তা ব্রি‘টেন চায় না বলে জানান হাই কমিশনার ডিকসন। তিনি বলেন, বৈঠকে এ নিয়ে আমি দুটো বিষয় বলেছি। প্রথমত, এই বৈঠকের বিষয়টি আমি লন্ডনের সাথে আলোচনা করব। দ্বিতীয়ত, তারেক রমান লন্ডনে বসবাস করছেন, আমাদের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় তার ওইখানে বসবাস করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

তাছাড়া বাংলাদেশে ফেরত আসার ব্যাপারে তারেক রহমান এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, যা আমাদের বিচারিক ব্যবস্থায় বিবেচিত হতে পারে। আমি মনে করি, আমাদের বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে আমরা কোনোভাবেই চাই না, এই একটিমাত্র বিষয়ে বাংলাদেশ ও ব্রি‘টেনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষুন্ন হোক।

এছাড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সরকারের যৌথ কর্মপন্থা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান হাই কমিশনার।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো ‘গণহত্যার’ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয় নিয়ে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের ব্যপারে আলোচনা হয়নি বলে জানান আইনমন্ত্রী।

তবে তিনি বলেন, আমরা এই ব্যাপারে কাজ শুরু করব। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির জন্য আমরা কাজ করব। সেই নির্দেশনাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা পেয়েছি। পরিকল্পনামাফিক সেই কাজে এগিয়ে যাব। আমরা সেই পরিকল্পনাটা তৈরি করছি। আমার মনে হয় পরিকল্পনাটা তৈরি করার পরেই যেসব বন্ধুপ্রতীম দেশ আছে তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করা উচিৎ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, গত বৃহস্পতিবার কানাডার আদালতে একটা শুনানি হয়েছে নূর চৌধুরীর ব্যাপারে। কানাডিয়ান সরকারের কাছে আমারা কিছু তথ্য চেয়েছি। সেই তথ্য মিনিস্টার ফর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ অব কানাডা দেয় নাই, না দেওয়ার কারণে আমরা কানাডার ফেডারেল কোর্ট গিয়েছিলাম।

সেখানে গত বৃহস্পতিবার যে শুনানি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের আইনজীবী তার বক্তব্য রেখেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল অব কানাডার পক্ষে আইনজীবী বক্তব্য রেখেছেন। আমি জেনেছি যে, নূর চৌধুরীর আইনজীবীও বক্তব্য রেখেছেন। কোর্ট সবার শুনানি নিয়ে পরে রায়ের জন্য রেখেছেন।

 

 

 

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *